ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে  ডিজিটাল ঢেঁকির উদ্ভাবন

 

ঐতিহ্য রক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ে ডিজিটাল ঢেঁকির মাধ্যমে চাল তৈরি করছেন ওমর ফারুক নামে এক উদ্যোক্তা। ঢেঁকিতে ভাঙানো চালের চাহিদা থাকায় দিন দিন বাড়ছে সরবরাহ। তবে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করতে না পারায় এ প্রযুক্তির আরও প্রসার ঘটাতে চান তিনি।

একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে পায়ে চালিত ঢেঁকিতেই ধান ভাঙার কাজ চলত। ঢেঁকির শব্দে সরোব থাকত প্রতিটা বাড়ি। পরিবর্তিত সময়ে আধুনিকতার কারণে এটা বিলুপ্তের পথে। তবে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেশিনের মাধ্যমে ঢেঁকিতে ধান ভেঙে চাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ডিহট বিন্নাকুড়ি গ্রামের যুবক ওমর ফারুক।

প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন রূপে আধুনিক পদ্ধতিতে বাড়িতেই এখন নিয়মিত ধান থেকে করা হচ্ছে ঢেঁকি ছাঁটা চাল। এতে কম সময়ে বেশি পরিমাণ চাল তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুতের মাধ্যমে মোটরচালিত লোহার হাতল দিয়ে পালাক্রমে চাপ দিয়ে ধানের তুষ ছাড়িয়ে চাল বের করা হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম এবং খরচও হচ্ছে কম।

অটো কিংবা হাস্কিং মিলের চেয়ে ঢেঁকি ছাঁটা চাল সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চাল সংগ্রহে আশপাশের লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তার বাড়িতে। তবে প্রাথমিক প্রর্যায়ে মাত্র দুটি ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চাল তৈরি করতে সময় লাগায় পর্যাপ্ত জোগান দিতে পারছেন না।
উদ্যোক্তা ওমর ফারুক জানান, এ ঢেঁকির মাধ্যমে দিনে ৫-৬ মণ ধান ভাঙছেন। আর এসব চাল স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করে অনলাইনে বাজারজাত করছেন দ্রুত সময়ে। পুস্টিসমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চালের দিন দিন চাহিদা বাড়ায় বর্তমানে স্বল্প পরিসরে উৎপাদন করা হলেও আগামীতে বড় পরিসরে উৎপাদনের আশা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উদ্যোক্তাকে সাধুবাদ জানিয়ে তার এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানালেন জেলা প্রশাসনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম।
আধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যুৎ ও মোটরের মাধ্যমে গত ৭ মাস আগে স্থাপন করেন ডিজিটাল ঢেঁকি।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য