কানাইঘাটে কাগজী লেবুর বাম্পার ফলন, উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন যুবকেরা

কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি এলাকায় বীজ ছাড়া দেশীয় জাতের কাগজী লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লেবু চাষে উব্দুদ্ধ হচ্ছেন যুবক শ্রেণির কৃষক চাষিরা।

উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জিসহ আশপাশ গ্রামের কৃষকরা দেশীয় জাতের কাগজী লেবুর বেশ কয়েকটি লেবু বাগান করা হয়েছে। তাদের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই বিভিন্ন জাতের লেবুর বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। উৎপাদিত লেবুর চারা এবং বাগান দেখে নতুন নতুন বাগান সৃষ্টি হচ্ছে। ধীরে ধীরে ওই এলাকা লেবু অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করছেন লেবু চাষিরা।

চাষিরা জানান, পাহাড়ী উচু ও সমতল জমিতে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ৫/৬ ফুট দূরত্বে বেড তৈরি করা হয়। গর্তের মাটির সঙ্গে ১০ কেজি গোবর সার, ১৫০ গ্রাম ইউরিয় ১৫ দিন ফেলে রাখা হয়। এরপর ৫ থেকে ৮ ফুট দূরত্বে একেকটি লেবুর চারা রোপণ করা হয়। দেশে যত জাতের লেবু আছে; তার মধ্যে কাগজী জাতের লেবু কম সময়ে বেশি ফলন হওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন কাগজী লেবু চাষে।

সোনাতনপুঞ্জির লেবু বাগান দেখতে আসা ভাটিদিহি গ্রামের ছাত্রনেতা মাহফুজ সিদ্দিকীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সোনাতনপুঞ্জির কথা শুনে সেখানে লেবু বাগান দেখতে আসি। এসে দেখি কাগজী জাতের লেবুর পাশাপাশি কৃষকরা ঝারা, চাষনী ইত্যাদি জাতের লেবুর চাষ করা হচ্ছে। প্রতিদিন এখান থেকে খুচরা ও পাইকারী হিসেবে লেবু বিক্রি করে কৃষরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেকেই লেবু বাগানে ঘুরতে আসেন আবার যাবার বেলা লেবু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

লেবু চাষি সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মামুন আহমদ, শহীদ আহমদ, ইমরান হোসেন, মইনুল হোসেন, ফজল আহমদ, সেলিম আহমদের সাথে কথা হলে তারা জানান, করোনাভাইরাসের কারনে গত এক বছর থেকে বাজারে লেবুর চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়া রমজান মাসে লেবুর চাহিদা একটু বেশি হওয়ায় প্রতিটি লেবু বাগান থেকে সপ্তাহে দুই দিন প্রতি বাগান থেকে দেড় থেকে দুই হাজার পিস লেবু তোলা হচ্ছে। বর্তমান বাজারে প্রতি হাজার লেবু ৬/৭ হাজার টাকা হিসেবে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

তারা আরো জানান- এ বছর লেবুর ভালো ফলন হয়েছে এবং বাজারেও ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় লেবু চাষে এলাকার যুবকরা আগ্রহ বাড়ছে।

এসব যুবক লেবুচাষীরা আরো জানান, ‘চারা লাগানোর তিন মাস পর ফুল এবং ছয় মাস বয়স থেকে ফল আসা শুরু হয়। এ লেবু বীজ ছাড়া, রস বেশি, গাছে ফলের পরিমাণ বেশি, আলাদা ফ্লেভার এবং টকের পরিমাণ অনেকটা কম। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি লেবু চাষে উপযোগী। পোকামাকড়ের উপদ্রবও কম। কম সময়ে ও কম খরচে লেবু চাষ করা সম্ভব। গাছ যত বড় হবে; ফলও বেশি হয়ে থাকে’।

কানাইঘাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানবির আহমদ বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে এবং কৃষকদের উদ্যোগে ৩০/৩৫টি লেবু বাগান করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে লেবু চাষিদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বাগানে কাগজী জাতের লেবুতে চাষিরা সফল হয়েছেন। ভালো ফলন ও বাজারে কাঙ্খিত মূল্যে বিক্রি হওয়ায় ঐ এলাকার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন লেবু চাষে।

 

জকিগঞ্জ টাইমস/ এল টি

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য