‘আখতা আয়, আখতা যায়। ছকুর ফলখে নেয় গি’

শিরোনাম শোনেই চমকে যাবেন যে কেউ। ভাবছেন বিষয়টি কি ? বিদ্যুতের ভেলকীবাজীতে অতিষ্ট এক গ্রাহক এভাবেই বিদ্যুত পরিস্থিতির বর্ণনা করলেন। জকিগঞ্জ উপজেলার মানুষ বিদ্যুতের লুকোচুরিতে এখন অতিষ্ট। বিদ্যুত ভোগান্তিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উপজেলার হাতিডহর গ্রামের বৃদ্ধ আবুল ফজল মিয়া। তিনি বলেন- ‘আখতা আয়, আখতা যায়। ছকুর ফলখে নেয় গি। রোজা মাইয়া দিন বড় খষ্ট অর।’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাজেদ আহমদ জানান- ‘রমজানের এই সময়ে মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।’

বিদ্যুতের দিনরাত লুকোচুরি খেলায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জকিগঞ্জের সকল শ্রেণীর গ্রাহক। পবিত্র রমজান মাসেও বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি এখন অসহনীয় পর্যায়ে। মুসল্লীদের ইফতার, তারাবী ও সেহরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গ্রাহকের প্রত্যাশা থাকলেও জকিগঞ্জে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে অসহনীয়। বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে লাখো গ্রাহক যেমন কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনি পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের। রমজানে ফ্রিজে সরবরাহকৃত মালামাল নিয়েও দুশ্চিন্তায় অনেকেই। এ নিয়ে একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আবুল কালাম আজাদ জানান,জকিগঞ্জে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ রয়েছে, কোন ধরণের ঘাটতি নেই। তবে এটা সত্য, কালবৈশাখি ঝড়ের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।। ঘন ঘন বিদ্যুৎ নেয়া-দেয়া, সামান্য বৃষ্টিতে দীর্ঘসময়ের লোডশেডিং ও ইফতার-সেহরীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের উত্তর জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘সব অভিযোগ সত্য নয়। ১০মিনিট বিদ্যুৎ না থাকলে অনেকে বাড়িয়ে বলেন। তবে ঝড়ের কারণে গ্রাহকের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জকিগঞ্জের বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। শতভাগ বিদ্যুতায়িত জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

জকিগঞ্জ টাইমস / এল টি

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 227
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য