সিলেট থেকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ রফতানি  শুরু

 

সিলেটের অর্থনীতিতে যোগ হলো আরও একটি সম্ভাবনাময় খাত।সিলেট থেকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (১১ এপ্রিল) সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তানে ১৩টি ওষুধ রফতানির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আর পর্যটননির্ভর সিলেটের অর্থনীতিতে যোগ হলো আরও একটি সম্ভাবনাময় খাত।

সিলেটের ব্যবসায়ী নেতারা সূত্রে বলছেন, সিলেটের শিল্পায়নে এই উদ্যোগটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রফতানির এই ধারা অব্যাহত রাখলে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সিলেটে ব্যবসা করতে আগ্রহী হবে। এতে এই অঞ্চলে শিল্পায়ন আরও সুদৃঢ় হবে। কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি বাড়বে বৈদেশিক আয়।

 

সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, সিলেট শহরতলীর বিসিক খাদিম নগর এলাকায় ১৯৯৭ সালে যাত্রা করে সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। প্রথমে মাত্র ১০টি ওষুধের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে শতাধিক ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি রয়েছে। সিলেটে মূল কারখানাটি হলেও বরিশাল, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব ডিপোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালের আগস্ট থেকে আগামী পাঁচ বছর আফগানিস্তানের জাঈদ ইলিয়াস আদিল লিমিটেডের কাছে ১৩টি ভিন্ন ওষুধ রফতানির চুক্তি করে সিলেকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে ওষুধ রফতানির কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. বদরুল হক রোকন, ডিরেক্টর (অপারেশন) ডা. সফিউল আযম খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ভ্যাট অ্যান্ড স্টোরের ইনচার্জ অর্পণ তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সিলেট থেকে এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ রফতানি শুরু করেছে। এই রফতানির ফলে একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছর আমরা ওষুধ সাপ্লাই দিব। পাশাপাশি ইয়েমেনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে সেটিও বাস্তবায়ন হবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটে কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই। তবুও ওষুধ খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে সিলেট এই প্রথম নাম লেখানোর কারণে বৈদেশিক আয়ের পাশাপাশি শিল্পায়নের একটি বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বাজারটি বড় হলে অনেক প্রতিষ্ঠান সিলেটে শিল্পায়নের বিকাশ ঘটাবে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।

এদিকে ওষুধ রফতানির এই কার্যক্রম সিলেটবাসীর জন্য সুখবর বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ শুয়েব।

তিনি  বলেন, আমরা চাই সিলেটে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠুক। চেম্বারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আমরা অনেক উদ্যোগই নিয়েছি। সিলেটে থেকে একটি প্রতিষ্ঠান ওষুধ রফতানি করছে। এখন থেকে তাদের আরও বেশি উৎপাদনে যেতে হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য