গোয়াইনঘাটে ঢিলেঢালাভাবে   প্রথম দিনের লকডাউন

 

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় লকডাউনের প্রথম দিন ঢিলেঢালা ভাবে অতিবাহিত হয়েছে।ভারী যানবাহন চলাচল না থাকলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। অনেক কড়াকড়ির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে উপজেলায় প্রথম দিনের লকডাউন।
সোমবার (৫ এপ্রিল ) সকাল থেকেই যান চলাচল ও মানুষের যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক। তবে উপজেলা সদরে ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার গুলোতে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে অনেক দোকানপাট বন্ধ জনসমাগম ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম।বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্বাভাবিকের মতই লোকজনের চলাফেরা। করোনার আতঙ্ক রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও লকডাউনের সরকারি নির্দেশনা মানতে বহু লোকের আপত্তি। সর্বত্র রাস্তায় দেখা গেল এক শ্রেণির মানুষকে। অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক আছে। মুখে মাস্ক নেই এমনও লোকজন দেখা গেছে।
সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে লকডাউন মানা তাদের কাছে একটা বোঝাস্বরূপ। এমনও মনে হয় যেন তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। লকডাউন মানতে অনেকেরই অনীহা প্রকাশ পায়। অনেক সচেতন মহলও লকডাউন মানতে নারাজ।
নিম্ন মধ্যবিত্ত দিনমজুর মানুষের কথা হচ্ছে লকডাউন মানে আমাদের কপালে কুড়াল মারা। আমরা কাজে না গেলে আমাদের ঘরে খাবার দেবে কে? প্রয়োজনের তাগিদে আমাদেরকে কাজে যেতেই হবে।সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি এবং লকডাউন মানতে ইউনিয়নের প্রতিটা গ্রামের পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করানো হয়েছে।
উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান অন্যান্য দিনের তুলনায় যান চলাচল ও মানুষের যাতায়াত কম। তবে লকডাউনের আমেজ সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সাংবাদিক আমির উদ্দিন ও ফতেপুর ইউনিয়নের সাংবাদিক এইচ কে শরীফ সালেহীন একই কথা বলেন এবং বাজারগুলোতে জনসমাগম অন্যান্য দিনের তুলনায় কম আছে বলে মন্তব্য করেন।
সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম খান বলেন আমরা উপরের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে প্রথম দিন কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছি না বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা গাড়ির গতিরোধ করে তাদেরকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে দিক নির্দেশনা দিচ্ছি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে যাতে জনসমাগম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।
উপজেলার জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে খুব শক্তভাবে পালিত হচ্ছে লকডাউন পর্যটন কেন্দ্রের এরিয়ায় জনমানব শূন্য সুনশান নিরবতা বইছে। জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ওসি রতন শেখ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক অবস্থায় আছে জাফলং টুরিস্ট পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ বলেন, আমরা প্রথমদিন কোন আইন প্রয়োগ না করে মানুষজনকে বুঝাচ্ছি,প্রতিটা স্ট্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে গাড়ি বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছি, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ফতেপুর, লাফনাউট, বাইপাস, রাধানগর ও সালুটিকর বাজারসহ প্রতিটি ফাড়ি পথের সম্মুখে চেক পোষ্ট বসিয়েছি,বাজারে যাতে অযথা কেউ ঘুরা ফেরা না করে ও হোটেল রেস্তোরায় না ঢুকে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মুল্য যাতে কেউ নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশী না নিতে পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছি,সর্বোপরি উপজেলা প্রশাসনের সাথে মিলেমিশে সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করছি ৷
লকডাউন এর প্রথম দিনে গোয়াইনঘাট বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লকডাউন নিশ্চিতে টহল জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন, দুপুরে সহকারী কমিশনার ভুমি নুর হোসেন নির্ঝর এর নেতৃত্বে উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ বলেন সরকার নির্দেশিত ১৮দফা বিধি নিষেধ মেনে চলা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত আবশ্যিক,প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘরের বাহিরে বের না হই। দেশের নাগরিক হিসাবে দেশের স্বার্থে এবং আমাদের নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে সকল প্রকার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা আবশ্যক ৷
উপজেলা নির্বাহি অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে চষ্টা করছি মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌছানোর,আমি আশা করি মানুষজন তাদের নিজ নিজ স্বার্থের কথা ভেবে এই একটি সপ্তাহ একটু কষ্ট করে হলেও নির্দেশনাগুলা মেনে চলবেন। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চলছে। লকডাউন না মানার বিষয়ে যেখান থেকে অভিযোগ আসবে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সবাইকে সচেতন হয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

 

 

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য