বাদাম বিক্রেতা সেই কলেজছাত্রীর স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিলেন এমপি নূর

বাদাম বিক্রি করছেন কলেজছাত্রী লতা রায়

 

লতা রায় (১৯)। এ বছর নীলফামারী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাবা জগেন রায় ইটভাটার শ্রমিক। সাড়ে ৪ বছর বয়সে মা মারা যাওয়ায় লতার বেড়ে ওঠা সৎ মায়ের সংসারে। অভাবের সংসারে যেখানে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা দায় সেখানে লতার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কী করে। শুরু করেন বাদাম বিক্রি। বিষয়টি জানতে পেরে তার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জমান নূর।

জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসক হওয়ার আশা বুকে নিয়ে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ নামে একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকাতে তিন মাস কোচিং করেন লতা রায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে। অভাবের সংসারে ওষুধ কিনতে ব্যর্থ হয় দিনমজুর বাবা। আত্মীয়-স্বজন সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়। পড়ে যান মহা দুশ্চিন্তায়। কী করবেন ভেবে উঠতে পাচ্ছিলেন না।

খোঁজ-খবর নিতে লতার বাড়িতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়ে বাদাম বিক্রির পথ বেছে নেন লতা রায়। যে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছেন সেই প্রতিষ্ঠানে শুরু করেন বাদাম বিক্রি। মানুষজনের কটু কথা এড়াতে বোরখা পড়ে বাদাম বিক্রি করেন। লতা রায়ের বাদাম বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জমান নূর তার পড়ালেখা ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়।

আসাদুজ্জমান নূর ঢাকায় থাকায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান পল্লবীকে খোঁজ-খবর নিতে লতার বাড়িতে পাঠান। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর মুঠোফোনে লতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার মাথা ব্যথার চিকিৎসাসহ লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তাও করেন তিনি।

লতা রায় সাংবাদিকদের জানান, আমার জন্য সবাই প্রার্থনা করবেন। আমি যেন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে একজন চিকিৎসক হতে পারি। চিকিৎসকের মতো মহান পেশায় আসতে পারলে এলাকার গরিব মানুষজনকে সাহায্য করতে পারব।

 

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য