নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের দাবি

প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও নকশা আধুনিকায়ন করে ব্যাটারিচালিক রিক্সা, ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান; বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক উচ্ছেদ ও হয়রানি বন্ধ, বন্দর-চৌহাট্টা সড়কে রিক্সা-ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা সহ ৩ দফা দাবিতে সিলেটে রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে  রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট সদর উপজেলার সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আবু জাফর, রিক্সা-ব্যাটারি রিক্সা-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগরের সংগঠক প্রণব জ্যোতি পাল, রিক্সা-ব্যাটারি রিক্সা-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ জেলার নেতা মাসুদ চৌধুরী, সাহেদ আহমদ, আব্দুল আলিম, রেশাদ আহমদ, মুসলিম আহমদ, তমিজ উদ্দিন, সোহেল আহমদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদ জেলা নেতা জুবায়ের আহমদ চেীধুরী সুমন, শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম, মো: রিয়াজ, আরমান মিয়া, সরুজ মিয়া, লাল মিয়া প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ডিজিটাল বাংলাদেশের গল্প মোনানো হলেও সবচেয়ে কষ্টকর কাজের সাথে যুক্ত রিকশা শ্রমিকরা যখন এনজিও থেকে ঋণ করে রিকশায় মোটর লাগিয়ে কষ্ট লাঘব করতে চেয়েছেন তখন বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরম হয়রানি করা হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজকের ডিজিটাল ও প্রযুক্তির যুগে অত্যন্ত অমানবিক, হাড় ভাংগা খাটুনির পদচালিত তিন চাকার রিকশা চালানোকে আমরা উৎসাহিত করব। নাকি আমরা প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ঘরে অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন করে চালকদের জন্য সহজতর ও মানুষের জন্য নিরাপদ বাহনে পরিনত করব। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ যেখানে আত্মকর্মসংস্থান এর মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে, তাদেরকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে উচ্ছেদ করব, নাকি ঐতিহ্য রক্ষা করার কথা বলে পুরোনো ধরনের রিকশাকে ধরে রাখব, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ব্যাটারি উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রি বৈধ, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পার্টস বিক্রি হচ্ছে বৈধভাবে, ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিভিন্ন গ্যারেজে নির্মাণ বৈধ। এমনকি বিদেশ থেকে ইজিবাইক আমদানি ও বিক্রি বৈধ। তাহলে তা রাস্তায় চললে তাকে অবৈধ বলা হবে কেন? তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে আমরা সবাই জানি ইতোমধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ সমস্ত বড় শহরে ব্যাটারিচালিত টুকটুক পরিবহন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রধান বাহনে পরিনত হয়েছে। ইউরোপের বেশীরভাগ দেশেই ব্যাটারিচালিত বা বিদ্যুতায়িত গাড়ীকে উৎসাহিত করা হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপদ হওয়ার কারনে। আমরা মনে করি বিশ্বের দিকে তাকিয়ে, সময়ের প্রয়োজনে ও দেশের বাস্তব চাহিদার প্রেক্ষিতে এই যানবাহনকে একটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা দরকার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই গাড়ী নির্মানে স্থানীয় মেকানিকরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। তাদের মেধার সাথে দেশীয় প্রকৌশলী, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ও সড়ক বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করলে সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত যান্ত্রিক যানবাহন নির্মান করা সম্ভব। যার মাধ্যমে দেশের গণপরিবহনে যেমন পরিবর্তন ঘটবে, একইসাথে সড়ক মহাসড়কেও শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যাবে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সিলেট নগরীর বন্দর-চৌহাট্টা সড়কে রিক্সা-ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ ৩দফা দাবি আদায়ে আগামী ১৫ মার্চ ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশ এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি সফল করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য