বিজয়ের মাসে অঙ্গীকার হোক ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশের

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। এ মাটির পরতে পরতে আজও শহীদের রক্ত ও ঘামের ঘ্রাণ তাজা হয়ে আছে। এখনো সেই ভয়াবহ বীভৎসতার চিহ্ন অনেক জায়গায় পাওয়া যায়। যারা নিজেদের প্রাণকে উৎসর্গ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, বিদায় জানিয়েছিল স্ত্রী-সন্তানদের নাড়ির বন্ধনকে। শুধু দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন বর্তমানে যেন তারই প্রতিবিম্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি সমাজ বা সমাজের জাতি একদিনে ধ্বংস হয় না, ধীরে ধীরে হয়। আমাদের অগোছালো সমাজ ব্যবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকরের জন্য আজ এই পরিস্থিতি দেখতে হচ্ছে।

পত্রিকার পাতায় প্রতিদিনই অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা পাওয়া যায়। দ্রুত বিচার ব্যবস্থা না থাকার কারণে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। যার দরুণ কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধকে বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আইন করেও কাজ হচ্ছে না। ফেনীতে চলতি বছরের গত ১১ মাসে ১১৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণের বেশি। গত ১০ মাসে দেশে এক হাজার ৩৪৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৬ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৩জন নারী। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরো ২৭১ জনকে।

কিছুদিন আগে বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র তাদের ওয়েবসাইটে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, ছয় বছর বয়সী ৯৬ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ও ধর্ষিত হয়ে মারা গেছে একজন। ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৭৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে ও ১১ জনকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছে একজন।

১৩ থেকে ১৮ বছরের কিশোরীদের মধ্যে ১৮৯ জন ধর্ষণের শিকার, ধর্ষণের পর মৃত্যু ১১ জন এবং আত্মহত্যা করেছে ৬ জন। এ ছাড়াও ১৯ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সাতজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং একজন আত্মহত্যা করেছে। ২৫ থেকে ৩০ বছরের নারীদের মধ্যে ২১ জন ধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে ও আত্মহত্যা করেছে একজন। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের মধ্যে ২২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন। তারা আরও জানায়, গত ১০ মাসে ৫০৭ জন ধর্ষণের শিকার নারীর কোনো বয়স জানা যায়নি।

এ ছাড়া ধর্ষণের পরে ১৫২ জন মৃত্যুবরণ করেছে এবং ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ২৭১ জন। এ ছাড়া শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১৮০ জন এবং শ্লীলতাহানির পরে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। এদেশের স্বাধীন পতাকার পেছনে লুকিয়ে আছে আমার মা-বোনের আর্তনাদ, অনেকেই এখনো আড়ালে চোখের পানি ফেলে; যদি সেই পরিস্থিতি স্বাধীনতার পরেও ফিরে আসে তাহলে বলবো আমরা কেবল কাগজের স্বাধীনতা পেয়েছি, প্রকৃত স্বাধীনতা পাই নি। তাই আসুন, বিজয়ের এই মাসে শপথ নেই বাংলাদেশ হবে ধর্ষণ ও ধর্ষকমুক্ত। লাল সবুজের পতাকায় ভাসবে বঙ্গ তরুণীর ঠোঁট বাঁকা হাসি।

লেখক: নির্বাহী প্রকাশক, স্বর্ণলিপি প্রকাশন

এমএনআই

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য