বড়লেখায় দুই যুবককে দেয়া হচ্ছে সরকারি পাকা ঘর।

 

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হতদরিদ্র দুই যুবককে দেয়া হচ্ছে সরকারি পাকা ঘর।

মঙ্গলবার ঘরের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান ও সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এ সময় সদর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন ও ইউপি মেম্বার ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিটি পাকা ঘর নির্মাণে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

উপজেলার সদর ইউপির বিওসি কেছরিগুল এলাকার সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হতদরিদ্র এই দুই যুবকের নাম সুবল ভোমিজ সিংহ ও জগ সাওতাল।

জানা গেছে, গৃহহীন এই দুই যুবকসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা ভাসমান জীবনযাপন করছিলেন। তারা দুইজনসহ ৯ সাঁওতাল যুবক গত ১৪ নভেম্বর মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকা থেকে একটি শজারু শিকার করেন। স্থানীয় বনপ্রহরী তাদেরকে আটক করেন।

রাতে ঘটনাস্থলে ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সুবল ভোমিজ সিংহ ও জগ সাঁওতালকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অপর সাতজনকে ১০ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। দণ্ডিত দুই সাঁওতাল যুবকের সাজার মেয়াদ গত ১৪ ডিসেম্বর শেষ হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বলেন, দুই সাঁওতাল যুবক অত্যন্ত নিরীহ। তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র, অন্যের বাড়িতে কোনোমতে থাকে। এ বিষয়টি জেনে ইউএনও তাদের দুইজনকে দুটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান বলেন, অসচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে তারা শজারুটি শিকার করেছিলেন। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ৯ সাঁওতাল যুবকের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত দু্ইজন অত্যন্ত দরিদ্র। বাবা-মাসহ তারা অন্যের বাড়িতে থাকেন। গৃহহীন হওয়ায় তাদেরকে দুইটি পাকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য