সিলেটে টিলা কাটা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না।

জকিগঞ্জ টাইমস ডেস্ক :

এতদিন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি চক্র এ কাজে জড়িত থাকলেও এবার টিলা কাটার অভিযোগ উঠেছে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) বিরুদ্ধে। গ্যাস সংযোগ দিতে পাইপলাইন বসানোর জন্য সিলেটের সদর উপজেলার বড়শালা এলাকার একটি টিলা কাটছে প্রতিষ্ঠানটি।

জালালাবাদ গ্যাসের একাধিক কর্মকর্তা পাইপলাইন টানার জন্য টিলার কিছু অংশ কাটার কথা স্বীকার করলেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে টিলা কাটার সত্যতা পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে গ্যাস সংযোগের পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে জালালাবাদ গ্যাস। হাই-টেক পার্কের পাইপলাইন টানার জন্য বড়শালা এলাকার একটি টিলা কাটা হচ্ছে। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের পাশের এ টিলা স্থানীয়ভাবে ‘কাকুয়াপারের টিলা’ নামে পরিচিত। এই টিলার একদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জালালাবাদ গ্যাস এ টিলা কাটছে। তারা জানান, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে ভোলাগঞ্জ পাথর কেয়ারি থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক যাতায়াত করে। টিলা ধসে যাতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য কয়েক বছর আগে টিলার একদিকে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। টিলা কাটায় এ প্রতিরক্ষা দেয়ালও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।

এছাড়া সিলেট অঞ্চলের টিলা বা পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতেরও নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেও কেউ সিলেট অঞ্চলের টিলা-পাহাড় কাটতে পারবেন না বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, অবাধে টিলা ও পাহাড় কেটে সিলেটকে টিলাহীন সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। আইনের প্রয়োগ, পরিবেশকর্মীদের প্রতিবাদ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় সাধারণের মাধ্যমে টিলা কাটার প্রবণতা কিছুটা কমলেও এখন দেখা যাচ্ছে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই টিলা কাটছে। তারা যদি নিজেরাই আইন না মানে তাহলে সাধারণ মানুষ মানবে কী করে।

টিলাটির আশপাশ এলাকার কয়েকজন জানান, গত শুক্রবার সকাল থেকে লাল নিশানা টাঙিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে টিলা কাটা শুরু হয়।

ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টিলাটির দুপাশে দুটি লাল নিশানা টাঙানো। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের জন্য টিলাটির এক পাশে প্রতিরক্ষা দেয়াল রয়েছে। সেখান থেকে কাটা হয়েছে টিলা। পশ্চিম দিকের অংশ যত্রতত্রভাবে খোঁড়া। টিলার ঢাল থেকে চূড়ার দিকের প্রায় চার শতক খোঁড়া অবস্থায় রয়েছে। পূর্ব দিকে টিলার ঢাল কেটে নেয়ায় খাড়া হয়ে পড়েছে একাংশ। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লা টিলা কাটার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা তো পাইপলাইন টানার কাজ এখনো শুরুই করিনি। টিলা কাটব কীভাবে। এটা অন্য কেউ কেটে থাকতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, বড়ছড়া এলাকায় একটি টিলা কাটার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। টিলা কাটার জন্য আমাদের কাছে কেউ আবেদন করেনি। তাছাড়া আবেদন করেও সিলেট অঞ্চলের কোনো টিলা বা পাহাড় কাটা যায় না। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। তদন্ত করে টিলা কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানো নোটিস প্রদান করা হবে।

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য