কোনা জালে উঠছে ‘কালো সোনা’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

হাওর-বাঁওড়ের নতুন পানিতে ভেসে আসা মাছ ধরার কাজেই সাধারণত ব্যবহার করা হয় কোনা জাল। বৈশাখের শেষ আর জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই এ জাল দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠেন হাওরাঞ্চলের মানুষ। তবে এবার মাছ নয়, জালে উঠছে কয়লা, যা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কাছে কালো সোনার মতো।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের জাদুকাটা নদীতে বন্ধ রয়েছে বালু-পাথর উত্তোলন। এ নিষেধাজ্ঞায় উপার্জনের অন্যতম ভরসাস্থল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন হাজারো শ্রমিক। এমন পরিস্থিতিতে জাদুকাটায় ভারতের ওপার থেকে ভেসে আসা পানিতে মিশে থাকা কয়লা হয়ে ওঠে আয়ের অন্যতম উৎস।

কোনা জাল ও বেলচা দিয়ে ভেসে আসা এসব ভারতীয় কয়লা তুলে জীবিকা নির্বাহের উৎস খুঁজে পেয়েছেন হাজারো শ্রমিক। এসব কয়লা তুলে দিন শেষে বিক্রি করছেন তারা। কয়লা বিক্রির টাকা দিয়েই বর্তমানে চলছে তাদের পেট।

হাওরাঞ্চল তাহিরপুরে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রতি জোর দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, শুধু এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর না করে শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে এ অঞ্চলে কাঁচবালি শিল্প, মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্ট বা পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা।

উপজেলার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের লোকজন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনা জাল দিয়ে কয়লা তোলেন। জাদুকাটার বারেক টিলা অংশ থেকে শুরু করে ঢালারপাড় পর্যন্ত নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে কোনা জাল ও বেলচা দিয়ে কয়লা তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিশুসহ নারীরা।

দিন শেষে এসব কয়লা বারকি নৌকায় লোড করে নদীর পাড়েই মৌসুমি মহাজনদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এতেই মিলছে স্বস্তি, মিলছে খাবারের সন্ধান।

স্থানীয় বাসিন্দা আহাদ মিয়া বলেন, নদীতে কাজ বন্ধ থাকায় আমরা ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছি। বর্তমানে নদী থেকে তোলা ভারতীয় কয়লা কিনে ব্যবসা কোনোরকম টিকিয়ে রেখেছি।

জাদুকাটা নদীতে ভেসে আসা কয়লা তুলে সংসার চলে মানিগাঁও গ্রামের নারী শ্রমিক ফাতেমা বেগমের। তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটে আমার। নদীতে কাজ না থাকলে কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এখন নদী থেকে কয়লা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছি। এ কাজ বন্ধ হলে আর কোনো উপায় থাকবে না।

ঢালারপাড় গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিয়াজ বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় এখন নদীতে কোনা জাল দিয়ে কয়লা তুলতে আসি। সারাদিন কয়লা তুলে ৩০০-৩৫০ টাকা পাই। এসব টাকা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেই।

জকিগঞ্জ টাইমস / এল টি ২৬

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য