ক‌্যাশ আউটে ‘নগদ’ নিচ্ছে ৯.৯৯ টাকা, বাকিরা কী ভাবছে?

জকিগঞ্জ টাইমস ডেস্কঃ ক‌্যাশ আউটের ক্ষেত্রে প্রতিহাজারে ৯.৯৯ টাকা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে ‘মোবাইল ফিন‌্যান্সিয়াল সার্ভিস’ (এমএফএস) নগদ। কিন্তু অন্য মোবাইল ব‌্যাংকিং সেবাদাতারা নিচ্ছে প্রতি হাজার লেনদেনে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে বিকাশ, রকেট, শিউরক‌্যাশ, ইউক‌্যাশের গ্রাহকের মধ‌্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, ২০১৯ সালে আসা নগদ যেখানে ক‌্যাশ আউটে মাত্র ৯ টাকা ৯৯ পয়সা সার্ভিস চার্জ নিচ্ছে, সেখানে অনেক আগে থেকেই মার্কেটে থাকা অন‌্য সেবাদাতারা ডাবল টাকা কাটছে। গ্রাহকরা এসব সেবাদাতার ক‌্যাশ আউটের ওপরও সার্ভিস চার্জ কমানোর দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে রকেটের গ্রাহক, চাকরিজীবী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘রকেটে ক‌্যাশ ইন, ক‌্যাশ আউট, উভয় ক্ষেত্রেই টাকা কাটে। তবে, প্রয়োজনের সময় এসব ভাবনায় আনি না। গ্রামে বাবাকে নিয়মিত টাকা পাঠাই। তিনি যেন বেশি না ঘুরে সহজে টাকাটা তুলতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখি। কে কত টাকা কাটলো, সেটা তখন ভাবি না। তবে, অবশ্যই এ বৈষম্য থাকা উচিত নয়।’

তরুণ গণমাধ্যমকর্মী ইয়ামিন আহমেদ বলেন, ‘বিকাশের মাধ‌্যমে প্রতি মাসে বাবা-মায়ের জন্য গ্রামে টাকা পাঠাই। অনেক টাকা কেটে নেয়। নগদে লেনদেন করতে পারলে খরচটা কম হতো। কিন্তু আমার গ্রামের এলাকায় নগদের এজেন্ট নেই। তাই নগদের আরও বেশি বেশি এজেন্ট যেন হাতের কাছে পাওয়া যায়, সেজন্য তাদের কাছে অনুরোধ রইলো।’

পোশাকশিল্পে কাজ করেন শিউর ক‌্যাশের গ্রাহক বিউটি বেগম। তিনি বলেন, ‘মাসের প্রথমে বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাই। খরচ হয় প্রায় ১০০ টাকা। এখন নগদে অ্যাকাউন্ট করেছি। মাত্র ৫০টাকা খরচে পাঠাতে পারি। যদিও বাড়ি থেইকা একটু দূরে যাইতে হয়, তাও তো ৫০ টাকা বাঁচে। এই টাকা আমার সংসারের অন্য কাজে লাগে।’

ইউক‌্যাশের গ্রাহক গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘নগদ যে সেবা ১০ টাকায় দিতে পারছে, অন্য সেবাদাতারা সেখানে কেন ১৮ থেকে ২০ টাকা নেবে? নগদ ১০ টাকা নিয়েও নিশ্চয়ই লাভ করছে! তাই নগদের সঙ্গে মিল রেখে অন্যদেরও চার্জ কমানো উচিত।’

ক‌্যাশ আউটের ক্ষেত্রে অন‌্য সেবাদাতাদের চেয়ে সার্ভিস চার্জ অর্ধেক কম রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘শুরু থেকেই কম খরচে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ‌্য। সে জন্য ক্যাশ আউট চার্জ কমিয়ে ৯ টাকা ৯৯ পয়সা করেছি। এই কারণে বাজারে বড় ধরনের সাড়া পড়েছে। ফলে গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে।’

দেশের মোবাইল ব‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাজার রয়েছে ২০১১ সালে বাজারে আসা বিকাশের। নগদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা ক‌্যাশ আউটের ওপর চার্জ কমাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিকাশের পাবলিক রিলেশন ও করপোরেট কমিউনিকেশন প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘সার্ভিস চার্জ আপাতত কমানোর পরিকল্পনা নেই। তবে, বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। আমাদের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহক। ’

শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম আরও বলেন,‘টাকা লেনদেন ছাড়াও আমাদের আরও অনেক ফিচার রয়েছে। বিকাশের মাধ্যমে অন্য ২১ ব্যাংক থেকে টাকা আনা-নেওয়া করা যায়। এজেন্ট, পরিবেশক, গ্রাহকের বিশাল নেটওয়ার্কের কারণে আমাদের অপারেটিং খরচও অন্যদের তুলনায় বেশি। তবে যখন ক্যাশ আউটের ওপর গ্রাহকদের নির্ভরতা কমবে, তখন চার্জের হারও কমবে।’

২০১৩ সালে বাজারে আসা ইউ ক্যাশের পাবলিক রিলেশন ও কমিউনিকেশন প্রধান জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মার্কেট পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতিতে বুঝে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

একই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২০১৫ সালে বাজারে আসা শিওর ক্যাশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মার্কেট পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইন মোতাবেক শিওর ক্যাশ উন্নত গ্রাহকসেবা দিয়ে যাচ্ছে। ’

মোবাইল ব‌্যাংকিংয়ে সুবিধা দিতে ২০১৬ সালে বাজারে আসে রকেট। ক‌্যাশ আউটের ক্ষেত্রে উচ্চহারে চার্জ কাটা প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে রকেটের দায়িত্বে থাকা ডাচ বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি আবেদুর রহমান শিকদারকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। এমনকী এসএমএস পাঠালেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব‌্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালক বলেন, ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’-এ গ্রাহকদের ক্যাশ আউট চার্জ সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি কোনো অপারেটর নিতে পারবে না।’ তবে, নিজস্ব ব্যবসায়িক পলিসির কারণে কোনো অপারেটর ২ শতাংশেরও কম নিলে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু করার নেই বলেও তিনি জানান।

জকিগঞ্জ টাইমস / এল টি ১১

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য