খরস্রোতা নদী কুশিয়ারা, হুমকির মুখে জকিগঞ্জের গদাধর গ্রাম


জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : ভারতের বরাক থেকে আসা খরস্রোতা নদী কুশিয়ারা। আপন মনে বয়ে চলছে। চলার পথে কাউকে করেছে নিঃস্ব আবার কাউকে করছে ভিটেমাটিহারা। ভাঙ্গাগড়ার ধারাবাহিক এই খেলায় এবার আঁচড় পড়েছে জকিগঞ্জ উপজেলার ২নং বীরশ্রী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গদাধর গ্রামে। প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। ধীরে ধীরে নদীতে বিলিনের পথে অর্ধশত পরিবার। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বদলে যাচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র।

গতবছর (২০১৯) পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বেড়িবাঁধ নামমাত্র খানিকটা মেরামত করা হয়। তাতে কাজ হচ্ছে না বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন রোধে। বিশাল এলাকায় দেখা দেয়া ভাঙ্গনে শুধু স্থানীয় জনগণ হতাশ নয় বরং এই ভাঙ্গনে হুমকির মুখে জকিগঞ্জ উপজেলার শীর্ষ স্থানীয় দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সোনাপুর মাজহারুল উলুম আলিম মাদরাসা। এই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বীরশ্রী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব আছব্বির আলী মুন্সী ও সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম জনাব আছদ্দর আলীর বাড়িসহ আরো ৩০/৪০টি পরিবার।

এলাকার যুবক ফয়ছল আহমদ বলেন, “বর্তমান যেখানে ভাঙ্গন দেখা দিছে ঠিক সেখান থেকে আরো প্রায় ২৫০/৩০০ মিটার দক্ষিণে ছিলো নদী। কিন্তু ধারাবাহিক ভাঙ্গনের ফলে ধীরে ধীরে তা এসে ভিটের পাশে ঠেকেছে। জানি না কখন যে শেষ সম্বলটাও কেড়ে নেয়।”

আরেক যুবক মাওলানা মোঃ ফজলুল করিম বলেন, “আমার আব্বা বলেছেন আগে ওপারের (ভারতের) মানুষের ঘরবাড়ি নদীর একেবারে কিনারে ছিলো। কিন্তু আজ তা ভেঙ্গে ভেঙ্গে আমাদের ঘরবাড়ির কিনারে চলে এসেছে। তিনিও অনাহুত বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।”

গেলো বছরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কথা বলতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের আরেক যুবক বলেন, “সঠিকভাবে কাজ করা হয় নি। যদি যথাযথভাবে কাজ হতো তাহলে হয়তো এতো ভাঙ্গন হতো না। সরকার যেভাবে বরাদ্ধ দেন তা যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না। কিন্তু তা দেখার সঠিক কেউ নেই। যারা আছে তারাও খাদক।”

এখনই ভাঙ্গনের সঠিক মেরামতের প্রয়োজন। তা-না হলে পরে আরো বেশি ক্ষতির আশঙ্কা আছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়টি নজরে রেখে সঠিক মেরামতে সুদৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য