বীরশ্রীতে কালের সাক্ষী জারুল গাছ

লিমন তালুকদার : মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি জারুল গাছ। শত বছরের সাক্ষী এই জারুল গাছটির অবস্থান গদাধর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। জকিগঞ্জের বীরশ্রী ইউনিয়নের গদাধর গ্রামে এই জারুল গাছটির অবস্থান।

গ্রীস্মের প্রচণ্ড খরতাপ থেকে নিজেদের রক্ষায় পথিকরা একটুখানি ক্লান্তি জোড়াতো এই জারুলের নীচে। সারাদিন গাছের ডালে কিচিরমিচির করে ডেকে যেতো মুক্ত বিহঙ্গ। স্কুলপড়ুয়া দুরন্ত শিশুরাও জারুলের মগডালে উঠে মেতে উঠতো আনন্দ উৎসবে। মোট কথা- স্কুলের সময় শেষ হয়ে গেলেও ফাঁকা থাকতো না জারুল বৃক্ষটি। সবমিলিয়ে শতবছরের সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে জারুল বৃক্ষটি।

গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী আবদুল জব্বার জানান, সেই ছোটো বেলা থেকেই এই জারুল গাছটিকে দেখে আসছি। শৈশবে এই গাছ নিয়ে তিনিও জানালেন নিজের স্মৃতিকথা। এই বৃক্ষের নীচেই স্কুল পড়ুয়া দুই বন্ধুতে মারামরি হয়েছিল। তাছাড়া, ওই জারুলের নীচেই বন্ধুদের নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করে সময় কাটাতের জব্বার আলীরা।

একই গ্রামের যুবক ইমদাদুর রহমান আজমী জানালেন, জারুল গাছটির সাথে গ্রামের মানুষের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন , এই জারুল বৃক্ষটি গ্রামের জন্য বাড়তি একটি পরিচিতি বয়ে এনেছে। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এই জারুল বৃক্ষটি অন্যতম একটি অবলম্বন।

গ্রামের অপর প্রবীণ মুরুব্বী আবদুল কাদির বলেন, বৃক্ষটি জারুল হলেও অনেকেই তাকে বটগাছ হিসেবে উল্লেখ করে। তিনি বলেন, সন্ধা হলে এই জারুল বৃক্ষের তলায় ভয়ে এখনো অনেক যুবক আসেননা।

স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমন জানান, বিদ্যালয়ে এসেই প্রথমেই আমরা আশ্রয় নেই গাছের নীচে। এক ডাল থেকে অপর ডালে ছোটে গিয়ে আনন্দ করি। স্কুলের ঘন্টা শুরু হলেই আবার ক্লাসে ফিরি।

জকিগঞ্জ টাইমস/এল টি/০১

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য