দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা


তাহিরপুর প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা থাকলেও মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। কিন্তু অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার পূজার সেই পুরনো সংস্কৃতি থাকবে অনেকটা অগোচরে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জাসহ নানা ধরণের আয়োজন থাকছে না। মহালয়া থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানাতে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবে হবে দুর্গাপূজায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা।

তবে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

জানা যায়, আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২৬ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর, বাংলা মাসের ৩১ ভাদ্র। এবার আশ্বিন মাস মল মাস মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পুজা হবে না। পুজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসেবে এবার দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসবেন মহালয়ার ৩৫ দিন পরে। এ কারণে ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পরদিন ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মুল আচার অনুষ্ঠান। ২৪ অক্টোবর মহা অষ্টমী এবং ২৫ অক্টোবর মহানবমী পূজা। ২৬ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এই দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

উপজেলা সদরের খলাহাটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করতে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থেকে এসেছেন কারিগর কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, প্রতি বছর এ সময় ১০-১২টি পুজামন্ডপে কাজ করে থাকি। এ বছর মাত্র চারটি পূজামণ্ডপে কাজ করছি। করোনার কারণে এবার গত বছরের মত উৎসবমুখর পরিবেশ কাজ হচ্ছে না। যার ফলে আমাদের কাজ নেই। আমরা এবার আর্থিক সংকটে পরেছি।

আরেক কারিগর বাদল চন্দ্র জানান, করোনা আমাদের সকল আনন্দ, আয়োজন ও কাজে স্থবিরতা এনে দিয়েছে। যে পরিমাণ কাজ তা আমাদের দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কারণ এই দুর্গা উৎসবকে ঘিরে আমাদের সকল আনন্দ আর উপার্জন তা এবার আর হলো না।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে এবারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে এ সম্পর্কিত নির্দেশনা রয়েছে। প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে। এ বছর উপজেলায় ৩৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে।

থানার অফিসার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই পর্যন্ত ২৯টি পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে তার তালিকা পেয়েছি। কিছু বরাদ্দ পেয়েছি তা তালিকা অনুযায়ী দেয়া হবে।

জকিগঞ্জ টাইমস/এবিএ/১৩

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য