গ্রাম হোক পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র

ইমতিয়াজ কামরান তালুকদার : ভ্রমণের জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে নিজের জন্য বিনিয়োগ। ভ্রমণ করার জন্য ধনী হবার প্রয়োজনীয়তা নেই। ভ্রমণ পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যার পেছনে অর্থ ব্যয় করে আপনি শুধু ধনী থেকে আরো ধনী হবেন।বছরে অন্তত একবার এমন জায়গা ভ্রমণ করা উচিত যেখানে আপনি আগে কখনোই যাননি।ভ্রমণ ও স্থান পরিবর্তন মনের মধ্যে নতুন প্রাণশক্তি তৈরী করে।ভ্রমণ মানুষকে জ্ঞান অজর্ন করতে সাহায্য করে।নতুন কোনো শহরে একাকী ঘুম থেকে জাগা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আনন্দের অনুভূতি।ভ্রমণ নিজেকে জানার অন্যতম উপায়।ভ্রমণ শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার আগ পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারে না ভ্রমণ কত সুন্দর ছিল।আমি নিজেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি যদিও আমার কাছে ভ্রমণ করতে ভালো লাগে।
গ্রাম হোক পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র বিশ্ব পর্যটন দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে সকল সদস্য দেশে এটি পালিত হয়ে আসছে। ২৭শে সেপ্টেম্বর দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়াও, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত বিশ্বের ৬টি পর্যটন অঞ্চল ১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলনে এর নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুণঃমূল্যায়ণ ও নির্ধারণ করা হয় এবং তখন থেকে এটি “বিশ্ব পর্যটন সংস্থা” নামে চিহ্নিত করার বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কার্যক্রম নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৮০ সালের বার্ষিক সম্মেলনে, এই সংস্থার গঠনের দিবসে অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে বিশ্বব্যাপী পর্যটন দিবস পালনের বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে এতে একটি স্বাগতিক দেশ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনয়ণের পক্ষে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থা ঘোষিত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২০ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Tourism and Rural Development পর্যটন বিশ্বে কৃষ্টি, ঐতিহ্য আর অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় স্থান, পাহাড়, বন, জলপ্রপাত, চা বাগান এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম অবারিত বালূকাময় সমুদ্রসৈকতটি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত। দেশের উত্তর-পূর্বঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ হাওড়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়।
২০২০ সালের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’। কৃষি, মৎস্য ও বনজসম্পদের বাইরে গ্রামীণ পর্যটনও বাংলাদেশের জন্য করোনা-পরবর্তী এক বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে। যেমন এ দেশের ধানচাষ পদ্ধতি, গ্রামীণ দেশীয় মৎস্যচাষ, চারু ও কারুশিল্প, তাঁত ও জামদানি, গ্রামীণ পিঠা, পাহাড়ি ঝরনা ও হ্রদ, জুমচাষ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রামীণ পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। কক্সবাজার, সিলেট ও সুন্দরবন ছাড়া গ্রামীণ পর্যটনকে যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারলে বিদেশি অতিথিদের জন্য পর্যটনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এছাড়া দেশের নদী, পাহাড়, হ্রদ, ঝরনা ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রামকেন্দ্রিক। এসব জায়গায় পর্যটক আগমন বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হবে, মজবুত হবে দেশের অর্থনীতিও; মানুষও তার করোনা-পরবর্তী হারানো মনোবল ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। এজন্য গ্রামীণ জনপদের শিক্ষা, পরিবেশ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এসব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারলেই এবারের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য সার্থকতা অর্জন করবে।
লেখক : তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, তালুকদার গ্রুপ অব কোম্পানী ।
জকিগঞ্জ টাইমস/বিথী/১০

 

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 47
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য