এইচএসসি পরীক্ষা হবে কিনা জানা যাবে কাল

জকিগঞ্জ টাইমস : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের ক্লাস। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষাও চলতি বছর না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা নিয়েই সবচেয়ে বড় চিন্তায় রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কবে এ পরীক্ষা আয়োজন করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)
অনলাইনে বৈঠকে বসবে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড। সভায় উপস্থিত থাকবেন সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিলে পরীক্ষা শুরু করব।

তিনি বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সব শিক্ষাবোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর একটি প্রস্তাব তৈরি করব।

এদিকে বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। পরীক্ষা কবে ও কীভাবে নেয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ, করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে।

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে তিনটি প্রস্তাব তৈরি করার কথা শোনা যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর স্বল্প পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে, শিক্ষার্থীর জেএসসি-এসএসসি এবং কলেজে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মূল্যায়নের ওপর ফল (গ্রেড) ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে। অথবা আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর সাড়ে পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই সময়ে কলেজগুলোর সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি ধরে রাখতে না পেরে অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পড়ালেখাবিমুখ হয়ে পড়েছে।

আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা শনাক্তের হার কিছুটা কমায় অনেকের মনেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি খুলছে? কারণ এরই মধ্যে বেশ কিছু দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। তাই অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

জকিগঞ্জ টাইমস / এস পি ০৮

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য