সিসিকের সীমানা বর্ধিতকরণ নিয়ে গণশুনানী শেষ হচ্ছে

 

সিলেট প্রতিনিধি: সিসিকের সীমানা বর্ধিতকরণ নিয়ে গণশুনানী আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে । দুইদিন ব্যাপী এই গণশুনানীতে বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় এবং প্রথম দিনেই দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আবেদনকারীদের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানীতে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন। আজ সদর উপজেলার আবেদনকারীদের শুনানীর মধ্য দিয়ে গণশুনানী শেষ হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেটের উপ পরিচালক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রথম দিনে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আবেদনকারীদের শুনানী গ্রহণ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রথম দফায় এবং বিকাল ৩টায় দ্বিতীয় দফায় শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, গণশুনানীতে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মীর মাহবুবুর রহমানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল হওয়া আপত্তিসমূহের শুনানী বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার সকালে মোল্লার গাঁও ইউনিয়ন, বরইকান্দি ইউনিয়ন ও কুচাই ইউনিয়নের আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনেন জেলা প্রশাসক। দুপুরে সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি সিলেট ও দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি, তেতলী ইউনিয়ন পরিষদ, সিলাম ইউনিয়ন পরিষদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশন অন্তর্ভূক্তি সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও আবেদনকারী ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। শুনানীতে অংশগ্রহণকারীরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিতকরণের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তারা নগরীর দক্ষিণ সুরমার ১০টি ইউনিয়নকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দাবির পক্ষে বিভিন্ন যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। জবাবে জেলা প্রশাসক সরকারি নীতিমালার মধ্যে যেসব দাবি বা সুপারিশ থাকবে- তা যথযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে বলে আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করেন।

শুনানীকালে উপস্থিত ছিলেন-সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি,সিলেট’র পক্ষে সহ-সভাপতি,দক্ষিণ সুরমা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল আলম, সহ-সভাপতি, তেতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মইনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর, সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আজম খান, দক্ষিণ সুরমা সমাজকল্যাণ সমিতির পক্ষে সভাপতি হাজী মোঃ ফারুক আহমদ , সহ-সভাপতি,দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, হাজী এম আহমদ আলী, সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান মতি,সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন বখত,তেতলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া,সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি,সিলেট’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক তালুকদার, অন্যতম সম্পাদক সাহাদ উদ্দিন দুলাল, হাজী জয়নাল আহমদ মেম্বার, আব্দুল ওয়াহিদ, জিয়াউল ইসলাম, সোহেল রানা,গোলাম মোস্তফা কামাল, আফতাব আলী,ইকবাল হোসেন,কামাল উদ্দিন রাসেল,সারোয়ার হোসেন,শাহীনুল কবির প্রমুখ।

দক্ষিণ সুরমা এলাকাবাসীর পক্ষে গণ শুনানীতে বলা হয়, দক্ষিণ সুরমা সিলেটের প্রবেশদ্বার এবং ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। এক সময় ১৭ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিলেট সদর উপজেলা ও দক্ষিণ সুরমা একীভূত এলাকা ছিল। প্রশাসনিক বিবর্তনে সদর উত্তরকে সিলেট সদর উপজেলা ও সদর দক্ষিণকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা গঠিত। প্রথম সিলেট পৌরসভা গঠনের সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়ন ও কুচাই ইউনিয়নের কিছু উন্নত এলাকার অংশ নিয়ে ২৫, ২৬ ও ২৭নং এই ৩টি ওয়ার্ড গঠন করা হয়। সিলেট পৌরসভা পরবর্তীতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়।

শুনানীতে আরো বলা হয়, নতুনভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বর্ধিতকরণে মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের তেলিরাই থেকে কমলগঞ্জ মকন দোকানসহ অর্ধ কিলোমিটার, বরইকান্দি ইউনিয়নের প্রায় পুরো অংশও কুচাই ইউনিয়নের আংশিক অংশ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এই বর্ধিতকরণে দক্ষিণ সুরমার সাথে অতীতের মতো বৈষম্য করা হয়েছে। সদর উপজেলা তথা উত্তর সুরমার বৃহৎ অংশ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সেই হিসাবে দক্ষিণ সুরমার সামান্য অংশ সিটি কর্পোশেনের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমার সকল এলাকাকে সমানভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানার অন্তর্ভূক্ত করা এখন সময়ের দাবি বলে তারা তাদের যৌক্তিকতায় উল্লেখ করেন।

শুনানীতে দক্ষিণ

জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে সিসিকের আয়তন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় নগর কর্তৃপক্ষ। এরপর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সর্বশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনের চেষ্টায় ২য় দফা আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের।

সুরমার জনগণের পক্ষে সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি ও দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি উত্তর সুরমার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ(এস.এম.পি)’র আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা ও মোগলা বাজার থানা এলাকাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্তির দাবি জানান।

২০০২ সালে ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে যাত্রা শুরু করে সিসিক। এর আগে ১৯৯৭ সালে সিলেট পৌরসভায় দক্ষিণ সুরমার তিনটি ওয়ার্ড (বর্তমান ২৫,২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড) অন্তর্র্ভূক্ত করতে গেলে শুধু উন্নত কিছু এলাকাকে পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত করার বিরোধিতা করেন এলাকাবাসী। পৌর সভার অন্তর্ভূক্ত হবেন না মর্মে জানিয়ে সভা-সমাবেশ করতে থাকেন অনেকে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। ভোট বাক্সে তখন দক্ষিণ সুরমার একটি ভোট ও পড়েনি। এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার পুরো দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করার দাবি তুলেছেন দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি ‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’ এর ব্যানারে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দেন। এতে তাদের দাবি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)’র আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভূক্ত করার। এই স্মারকলিপি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দপ্তরেও প্রদান করা হয়

জকিগঞ্জ টাইমস/ এবিএ ০৭

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য