শিক্ষা টিভি সত্বর হোক, তবে বিটিভির বাইরে থাক

 


শরিফুজ্জামান অনলাইনে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে শিক্ষা টিভি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ আলোচনা বেশ আগের। সর্বশেষ গত বছরের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের আলোচনার সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শিক্ষা টিভি চালুর কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে তখনকার গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এরপর এক বছরের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে আর উচ্চবাচ্য হয়নি।

সংসদ টিভি ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে এখন শ্রেণিপাঠ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শেষ হলেও অনলাইন শিক্ষা চালিয়ে নিতে শিক্ষা টিভি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা চ্যানেল করার এই পরিকল্পনা। সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে, একটি কমিটিও কাজ শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন

শিক্ষা টিভির ধারণা যে নতুন, তা নয়; ভারতের পাঞ্জাবসহ কয়েকটি রাজ্য শিক্ষা টিভি চালু করেছে। ভারত সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বয়ম প্রভা (পুরো নাম স্টাডি ওয়েবস অব অ্যাকটিভ লার্নিং ফর ইয়ং অ্যাসপায়ারিং মাইন্ড)–এর মাধ্যমে মোট ৪৪টি ডিটিএইচ বা ডাইরেক্ট টু হোম চ্যানেল চালু করা হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আলাদা এসব চ্যানেলে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে ক্লাস হচ্ছে। এরপর দিনে পাঁচবার সেই ক্লাস দেখানো হয়।

পাকিস্তান আমাদের চেয়ে শিক্ষাসহ নানা সূচকে বেশ পিছিয়ে। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল দেশটি শিক্ষা টিভি চালু করেছে, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেলিস্কুল চ্যানেল’। এর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানে ৪০ শতাংশের বেশি শিশু স্কুলের বাইরে। সরকারি হিসাবে, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে ৩৬ শতাংশ মানুষের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের চেয়ে অনেক সূচকে দেশটি পিছিয়ে থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ আগেভাগে দেশটি শিক্ষা টিভি চালু করেছে। এর ভালো-মন্দ ও বাস্তবতা নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ‘ইন দ্য ওয়ার্ল্ডস ফিফথ মোস্ট পপুলাস কান্ট্রি, ডিসট্যান্স লার্নিং ইজ আ সিঙ্গেল টেলিভিশন চ্যানেল’। চ্যানেলটি চালুর প্রায় এক মাস পর গত ১৯ মে ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলগুলো শিশুসহ সব বয়সের মানুষের জন্য একাডেমিক প্রোগ্রামের পাশাপাশি ডকুমেন্টারিসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম সম্প্রচার করে। দেশটির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দূরশিক্ষণ কোর্সে টেলিভিশন ব্যবহার করে। জার্মানিতে বিআর টিভির মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল এডুকেশন প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়। বিআর আলফা হচ্ছে জার্মানির স্বতন্ত্র শিক্ষামূলক চ্যানেল। সেখানে শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়। হংকংয়ের এডুকেশন চ্যানেলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

দীর্ঘদিন নানা কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় টেলিভিশন ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। মরক্কো সরকার সে দেশের একটি ২৪ ঘণ্টার স্পোর্টস চ্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করে তার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। নিউজিল্যান্ডে চালু করা হয়েছে ‘পাপা কাইনগা’ নামক শিক্ষা সম্প্রচার কার্যক্রম।

জকিগঞ্জ টাইমস / এস পি ০১

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য