পুরুষ, মানে কি কতৃত্ব না বন্ধুত্ব!

অনলাইন ডেস্ক :পৌরুষ মানেই যে নারীর ওপর কর্তৃত্ব ফলানো, প্রচলিত এ ধারণা একেবারেই ভুল। মা-বাবা দুজনের সঙ্গেই আমার খুবই কাছের সম্পর্ক। ব্যক্তিগত জীবনেও, পেশাগত জীবনেও। কাছের সম্পর্ক বলেই হয়তো মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি-মতবিরোধ, এসব বিষয়ে আমি বেশ অভ্যস্ত। তারপরও আমি দেখেছি যে বিশেষ করে পেশাগতভাবে কোথায় যেন আমার নিজের সম্পর্কেই একধরনের বৈষম্য আছে। বাবা একটা কথা বললে আমি যত জলদি এবং যত সহজে মেনে নিই, মা বললে কিন্তু অত সহজে আমি সেটা মেনে নিই না। একটা কারণ হতে পারে যে বহু বছর ধরে বাবাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাই আমি বাবার কথা শোনার ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন মা যদিও আমাদের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছেন, ওনার নেতৃত্বের ধরনে আমি হয়তো এখনো অভ্যস্ত হতে পারিনি। তাই হয়তো আমার তাঁর কথাগুলো মেনে নিতে অথবা তাঁর আদেশ গ্রহণ করতে বেগ পেতে হয়। কিন্তু এটা কোনো ধরনেরই অজুহাত হতে পারে না। সামাজিকভাবে পুরুষ আধিপত্যের চাপ সত্ত্বেও নারীদের সমান জায়গা দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের ধাতস্থ করতে হবে। সেটা শুরু করতে হবে নিজের বাসা-অফিস এসব জায়গা থেকেই। নতুন বিশ্বের ব্যক্তি হিসেবে আমার নিজেরও এটা করা বিশেষভাবে জরুরি। একজন নারীর জীবনের অভিজ্ঞতা আর একজন পুরুষের জীবনের অভিজ্ঞতা এক হবে না। অভিজ্ঞতা ভিন্ন হওয়ার কারণেই তাদের ব্যবহার এবং চিন্তাভাবনায় পার্থক্য থাকবে। কিন্তু নারীরা যখন নিজেদের যোগ্যতায় পুরুষদের পাশে জায়গা করে নিচ্ছে, তখন পার্থক্যের কারণে তাদের চিন্তাভাবনাকে হেয়ো করা কোনোভাবেই ঠিক হতে পারে না।
পৌরুষ বলতে আমরা কী বুঝি, সেটা ভাববার সময় এসেছে। পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমার মনে হয় যে পৌরুষের প্রমাণ বৈষম্য নয় বরং সমতার দিক থেকে আশা উচিত। আসল পুরুষ এবং পরিপূর্ণ মানুষ সে-ই হতে পারবে, যে নারীর প্রতি তার প্রাপ্য সম্মান দিতে পারবে। মানবজাতির অগ্রযাত্রায় নারী-পুরুষের অবস্থান নিয়ে ভেদাভেদ করবে না। সমতা এবং সম-অধিকারের উপলব্ধি হতে হবে ঘরে-বাইরে, ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে।

নারী-পুরুষের বৈষম্য কমে আসছে এবং অদূরভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এমন ভাবাটা এখন আর অবাস্তবিক নয়। এমন অবস্থায় আমাদের দৈনন্দিন জীবনে লিঙ্গবৈষম্যের কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। অথচ আর্থসামাজিক বৈষম্য যতই কমছে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক আচরণে বৈষম্য তো কমছেই না, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেড়ে চলেছে। এর একটা কারণ হতে পারে যে অর্থনৈতিক আধিপত্য হারানোর কারণে পুরুষদের মধ্যে একধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি হচ্ছে, এবং সেই হীনম্মন্যতা কাটানোর জন্য তারা ব্যক্তিগত জীবনে নারীদের ওপর আরও বেশি চড়াও হচ্ছে। আরেকটা কারণ হতে পারে ঐতিহাসিক অভ্যস্ততা। অনেক দিন ধরে বৈষম্য দ্বারা অভ্যস্ত হওয়াতে পুরুষ সমাজ হয়তো সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। পাশাপাশি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ফ্যাক্টর তো আছেই। এখনো আমাদের নাটক, সিনেমা, গানে আমরা প্রতিদিন লিঙ্গবৈষম্য খুঁজে পাই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য আরও উৎসাহিত করা হয়। বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশের প্রেসিডেন্ট যখন কথায় কথায় নারীদের ছোট করে এবং তাঁদের নিয়ে অশালীন কথা বলেন, তখন বুঝতে হবে যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৈষম্য কাটানোর বিষয়ে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?

জকিগঞ্জ টাইমস / টমস

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য