হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী ছাহেবের জানাযা সম্পন্ন

ফরিদ আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য  :

————————————

ব্রিটেনের অন্যতম প্রবীণ আলেম দ্বীন, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, বিশিষ্ট বুযুর্গ ও ইসলামী চিন্তাবীদ, লন্ডনের রেডব্রীজ এলাকার বাসিন্দা হযরত আল্লামা মুফতি মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দুবাগী শুক্রবার ১০ জুলাই শুক্রবার জুমআর পূর্বে বার্ধক্যজনিত রোগে লন্ডনের উইপসক্রস হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ (রবিবার ১২ জুলাই) তাঁর একসময়ের কর্মস্থল লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেন জামে মসজিদে তাঁর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন তাঁর বড় ছেলে হযরত মাওলানা জিল্লুর রহমান চৌধুরী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। জানাযা শেষে লন্ডনের গার্ডেন অফ পিস কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

হযরত মাওলানা দুবাগী (রহ) বৃটেনের অন্যতম প্রবীণ শ্রদ্ধাভাজন একজন আলেম ও বুযুর্গ। তিনি তাঁর কর্ম জীবন এর একটা বড় অংশ ব্রিটেনের লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদে প্রতিষ্ঠাতা খতীব হিসেবে কাটিয়েছেন বলে তিনি লেস্টারের ছাব নামেও সমধিক পরিচিত ছিলেন।
প্রখ্যাত ওলীআল্লাহ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ এর অন্যতম খলিফা বিশিষ্ট এই আলেমে দ্বীন বয়ান ও লিখনীর মাধ্যমে দ্বীনের খেদমতে তাঁর সারাটা জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে ও লাতিফিয়া কারী সোসাইটি ইউকের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ব্রিটেনের লেস্টার শহরের দারুস সালাম মসজিদের ইমাম ও খতীব ছিলেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত লন্ডনের নিউক্রস জামে মসজিদের খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানাযা পূর্ববর্তী আলোচনায় বক্তারা তাঁর আলোকিত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন বৃটেনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এক বর্ষীয়ান দিকপাল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিশ্বাস প্রচার ও প্রসারে তাঁর অবদান বৃটেনের মুসলিম কমিউনিটি সর্বদা মনে রাখবে। সমকালীন বহু আলেমের ওস্তাদ তিনি। খ্যাতনামা এই মুফতী তাকওয়া ও পরহেজগারীসহ বহুগুণের অধিকারী বিশিষ্ট বুযুর্গ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বক্তৃতা, বিতর্ক ও লেখনীর মাধ্যমে তিনি দ্বীনের সঠিক শিক্ষা প্রসারে আমৃত্যু চেষ্টা করে গেছেন।

ব্রিকলেন জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম এর পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা হবিবুর রহমান, সাবেক এমপি জনাব শফিকুর রহমান চৌধুরী, লাতিফিয়া ক্বারি সোসাইটির সভাপতি হযরত মাওলানা মুফতি ইলিয়াস হোসাইন, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের প্রেসিডেন্ট হযরত মাওলানা শেহাব উদ্দিন, দারুল হাদীস লাতিফিয়ার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, কিগলী জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা ফখরুল ইসলাম, আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা ছাদ উদ্দীন সিদ্দিকী, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের সাবেক সেক্রেটারি হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুর রহমান নিজামী, বায়তুল আমান জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুল মালিক, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা জনাব এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী, দারুল উম্মার উস্তাদ মাওলানা মুমিনুল ইসলাম ফারুকী, বিশিষ্ট টিভি ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল মুনতাকিম, ব্রিকলেন জামে মসজিদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাজ্জাদ মিয়া, মরহুমের বড় ছেলে হযরত মাওলানা জিল্লুর রহমান চৌধুরী, মেজো ছেলে মাওলানা ওলিউর রহমান চৌধুরী, মরহুমের জামাতা মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ আলী, নিউক্রস জামে মসজিদ এর সেক্রেটারি জনাব সেলিম রহমান, কানাইঘাট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়শন এর জনাব মাওলানা রফিক আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা আরো বলেন, দ্বীনি বিষয়ের একজন সুবক্তা ও বিতার্কিক হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। দেশে বিদেশে তিনি বহু মসজিদ, মাদরাসা ও খানেকা প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ত থেকে দ্বীনি খেদমত আনজাম দিয়েছেন। তিনি নবীগন্জ থানার তাহিরপুর ইত্তেফাকীয়া মাদরাসা, জকিগন্জ থানার আটগ্রাম আমজদিয়া মাদরাসা, মৌলভীবাজার জেলার মুকিমপুর আলীয়া মাদরাসা ও শ্রীমংগল আনোয়ারুল উলুম আলীয়া মাদরাসা এবং সিলেটের খ্যাতনামা সৎপুর আলীয়া মাদরাসায় সিনিয়র শিক্ষক, মুফতি ও মাদ্রাসা প্রধানের দায়িত্ব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গাছবাড়ী আলীয়া মাদ্রাসা ও সিলেট সরকারি আলীয়া মাদরাসার কৃতি ছাত্র ছিলেন। ১৯৬২ সালে সিলেট সরকারি আলীয়া মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে কামিল উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৮ সালে স্থায়ীভাবে ব্রিটেনে আসার পূর্ব পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসার খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বহু দেশ সফর করেছেন এবং আরবী, উর্দু ও ফার্সি ভাষায় তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ছিল। তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষায় বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। মাসয়ালা-মাসায়েল সম্পর্কে বিস্মিত হবার মত প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন তিনি। নিয়মিত তিনি কিতাব চর্চা করতেন। যে কোন কঠিন মাসলায় তাঁর দালিলিক সমাধান সর্বদলীয় ওলামায়ে কেরামের কাছে ঐক্যমতে গ্রহণযোগ্য ছিল। বিভিন্ন শহর থেকে ইমাম ও খতীবগণ তাঁর কাছে ফোন করে জঠিল মায়ালাগুলোর সমাধান জানতে চাইতেন। তিনি বহূ গ্রন্থ প্রনয়ন করেছেন। মানাসুল মুফতি, আল মাসাইলুন্নাদিরা, মিলাদে বে নজীর ও ফাতওয়ায়ে মুজাহিদিয়া তাঁর বেশ প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। মোট ২৩ খানা কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। বেশ ক’টি পান্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়েছে।

তাঁর ইন্তেকালে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের প্রেসিডেন্ট হযরত আল্লামা আব্দুল জলিল, ভাইস প্রেসিডেন্ট হযরত মাওলানা মুফতি ইলিয়াস হোসাইন, হযরত মাওলানা ছাদ উদ্দীন সিদ্দিকী, মুহাদ্দীস মাওলানা নজরুল ইসলাম, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের প্রেসিডেন্ট হযরত মাওলানা শেহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী, দারুল হাদীস লাতিফিয়ার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, সেক্রেটারি জনাব বদরুল ইসলাম ও লাতিফিয়া ক্বারি সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি হযরত মাওলানা মুফতি আশরাফুর রহমানসহ অন্যান্

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য