যাত্রীর ফেলে যাওয়া ৬১ লাখ টাকা ফেরত দিলো সিএনজি চালক

পরবর্তীতে একটি ফোন কলের মাধ্যমে অবসান হলো এই উত্তেজনাময় সময়।

পুলিশ গিয়ে পুরো ৬১ লাখ টাকাসহ উদ্ধার করলো সেই কাঙ্খিত লাল ব্যাগ। এর মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়ে গেল দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা সময়। সঠিক স্থানে টাকা ফিরিয়ে দিতে পেরে স্বস্তি ফিরে পেল সেই অটোচালক যুবক। হারানো টাকা ফিরে পেয়ে প্রাণ ফিরে পেলেন মালিক সেই ব্যবসায়ী।

এমনই এক বাস্তব ঘটনা ঘটেছে চাঁদপুর শহরে। রবিবার সকালে চাঁদপুর জেলার বিকাশ কোম্পানির এজেন্ট আলমগীর হোসেন জুয়েল ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টকে দেওয়ার জন্য চাঁদপুরের ইসলামী ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ও ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশকর্মী মাসুদ হোসেন নামের একজনকে দিয়ে টাকাগুলো একটি অটোরিকশায় করে শহরের জোড়পুকুর পাড় এলাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ সময় মাসুদ একটি লাল ব্যাগে থাকা ৬১ লাখ টাকা ভুল করে অটোরিকশাতে রেখেই নেমে পড়েন। পরে জুয়েল ও মাসুদ ফরিদগঞ্জে কাজে চলে যান। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মাসুদের মনে পড়ে টাকা একটি লাল ব্যাগ অটোরিকশা্তেই ফেলে এসেছেন। দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন সেই অটোরিকশাটি আর নেই সেখানে।

তারা পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখতে পায় টাকার ব্যাগ নিয়ে অটোচালকের চলে যাওয়ার দৃশ্য। ভিডিও ফুটেজ দেখার পরে বিকাশ এজেন্ট জুয়েল তার কর্মী মাসুদকে নিয়ে সদর মডেল থানায় ছুটে যান।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। এর মধ্যে এই ঘটনা পুরো শহরে আলোড়ন তোলে।

বিকাশ এজেন্ট আলমগীর হোসেন জুয়েলের অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে চাঁদপুর সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি দল শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজা শুরু করে নিখোঁজ অটো চালককে।

অপর দিকে অটোরিকশার চালক সজিব লাল ব্যাগটি খুলে এতো টাকা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বিকাশকর্মী মাসুদের জন্য আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘটনাস্থলে। পরে মাসুদের দেখা না পেয়ে সেখান থেকে পুরাণবাজার পুরাতন ফায়ার সার্ভিস এলাকয় অটোরিকশার গ্যারেজে চলে যান। সেখানে গিয়ে ওই এলাকার আরেক যুবক বাদলের কাছে ঘটনাটি বলেন এবং পুলিশকে জানানোর জন্য বাদলকে অনুরোধ করেন। বাদল চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মডেল থানার ওসি নাসিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা কাজে নেমে পড়ি। একই সাথে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অটো চালককে খুঁজতে শুরু করি। পরবর্তীতে একটি ফোন আসে আমার কাছে। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। থানায় এসে টাকা গুনে পুরো ৬১ লাখ টাকাই পাওয়া যায় ব্যাগে। পরবর্তীতে টাকা মালিক ব্যবসায় আলমগীর হোসেন জুয়েলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, মূলত অটোচালক ওই যুবকের সততার কারণেই এতো অল্প সময়ে টাকাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেই তার বন্ধুর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে টাকার সন্ধান দিয়েছে। তার এই সততায় আমরা মুগ্ধ। এই ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান স্যার অটোচালক যুবককে খুশি হয়ে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অটো চালক সজিব এতোগুলো টাকা হাতের কাছে পেয়েও মেরে দেওয়ার চিন্তা মাথায় আনেনি। এই যুবকের সততা আর নিষ্ঠায় আমরা বিমুগ্ধ। এই ঘটনায় এটাই প্রমাণ করে পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে। আর এই ভালো মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা এতো সুন্দর। সজিবদের মতো সৎ মানুষদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আমাদের বাংলাদেশ।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য