করোনার রিপোর্ট পেতে বিড়ম্বনার শিকার জকিগঞ্জ উপজেলা

আহমদ শাহ তামিম : দেশের যেকোন জেলা শহর থেকে উপজেলা সদরের দুরত্বের দিক দিয়ে আমরা জকিগঞ্জবাসী সবচেয়ে দুরবর্তী (প্রায় ৯০ কি:মি:)। এজন্য আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা দ্রুততম সময়ে পাওয়া থেকে বঞ্চিত।যার মধ্যে চিকিৎসা সেবা অন্যতম। একজন মুমূর্ষ রোগীকে জেলা শহরের যেকোন হাসপাতালে প্রেরণের জন্য নূন্যতম প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে। পথিমধ্যে সঠিক সময়ে সুচিকিৎসার অভাবে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা একেবারে কম নয়।

তাছাড়াও জেলা শহরে যাওয়া লাগে এরকম জরুরী কাজে ঠিক সময়মতো পৌছতে না পারার কারণে নানা রকম বিড়ম্বনার শিকার হন জকিগঞ্জ উপজেলার মানুষ।

নানান রকম অসংগতির মধ্যে সম্প্রতি করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য সংগ্রহ করা করোনার আলামত ও তার ফলাফল ঘোষনা নিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন উপজেলাবাসী । দেখা যাচ্ছে আলামত সংগ্রহ করার ৭-১০ দিনের মধ্যেও রিপোর্ট আসছে না।পুরো উপজেলার মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধুমাত্র করোনার আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় সিলেট শহরে অবস্থিত দুইটি ল্যাবে । একটি হচ্ছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর অপরটি হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় । তবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিক্ষা করা হয় সুনামগঞ্জ জেলার । আমাদের সিলেট জেলার ১২ টি উপজেলার পরীক্ষা করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । এই পরীক্ষাগারের ক্ষমতা হল প্রতিদিন ১৮৮ টি ।প্রতিদিন ১২টি উপজেলা থেকে ৩০ টি করে নমুনা আসে তবে মোট নমুনা হয় ৩৬০টি ।পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে ১৮৮ টি। প্রতিদিন বাকি তাকে ১৭২ টি নমুনা।একারণে রিপোর্ট পেতে একেকজন রোগীকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।

যার ফল স্বরূপ উপজেলা জুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রাণের দাবি- দুরত্ব ও জনসংখ্যার দিক বিবেচনা করে জকিগঞ্জ উপজেলার মধ্যে একটি ল্যাব স্থাপন করার জন্য।

আমরা আশা করি দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গ হস্তক্ষেপ করলে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনজরে পড়বে। এর ফলে এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পারে জনসংখ্যা বহুল এই উপজেলাটি।

লেখক : আহমদ শাহ তামিম, জকিগঞ্জ, সিলেট।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 170
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য