খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা আর চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার

শ্রীকান্ত পাল : এক সময় মানুষ জীবন ধারণের জন্য পেট পুরে খাবারের বিষয়টি চিন্তা করতো। এখন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা পুষ্টিকর খাবার চায়। অধিক খাবারকে বর্জন করে, সুষম খাবার খেতে চায় মানুষ। এক সময় বলা হতো ‘পানির অপর নাম জীবন’ এখন “বিশুদ্ধ পানিই জীবন।

মানুষ উন্নত হচ্ছে তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষেই। বিশ্বমানবতা দিন দিন উন্নতি সাধন করছে। এক সময় পথ কুকুর মেরে ফেলা হতো জলাতংক থেকে মানুষকে রক্ষা পেতে। এখন আমরা তাদের অধিকার রক্ষায় কথা বলি। তাদেরকে টিকা দিয়ে আমরা জলাতংক থেকে মুক্তির উপায় বের করেছি। অনেক মানবিক মানুষ এখন খাবারের তালিকা থেকে প্রাণীকে বাদ দিয়েছে তাদের অধিকারের কথা চিন্তা করে। মানুষের নৈতিকতা এভাবেই ধীরে ধীরে উন্নতি সাধন করছে।

আমাদের সমাজের নৈতিকতা কি সেভাবে উন্নতি সাধন করছে? শিক্ষা আর চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে বাণিজ্য চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মান সম্মত শিক্ষা পাওয়া প্রতিটি শিশুর অধিকার কিন্তু তা কি আমরা দিতে পারছি? প্রতিটি শিশুর অধিকার রয়েছে উন্নত শিক্ষা পাওয়ার কিন্তু আমার দেশের শিক্ষা বাণিজ্য দেখলে ভাবতে হয় আমাদের নৈতিকতার মানদণ্ড কোথায় পৌছেছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমাদের দেশের চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করছেন। তাদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানিয়েও বলতে হয়, চিকিৎসা বাণিজ্যেও চিকিৎসক আর চিকিৎসাপন্য তৈরী প্রতিষ্ঠানের অনৈতিকতার অধ্যায় কিন্তু আরো ব্যাপক। আমাদের ঔষধ কোম্পানীগুলো মান সম্মত ঔষধ তৈরী না করে ডাক্তাদেরকে বার্ষিক বড় অংকের উপটৌকন দিয়ে ডাক্তারদের অনৈতিক বানিয়ে তাদের ঔষধ বিক্রি করতে বাধ্য করে।

করোনা কালের ঔষধ বাণিজ্য দেখলে মনটা আরোও খারাপ হয়ে যায়। সারা বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, আমাদের ঔষধ কোম্পানীগুলো বাজারে মহামূল্যবান (প্রতিটি টেবলেটের মূল্য ৪০০/= প্রায়) ঔষধ বাজারে ছেড়েছে। আমরা নিরুপায়। একজন ডাক্তার শুধু রোগী দেখার ফি নেয় না, তার সাথে থাকে ডায়গনষ্টিকের পার্সেন্টিজ, কোম্পানীর ঔষধ বিক্রিরও পার্সেন্টিজ। আসলে কি এসবের খুবই প্রয়োজন। একজন বিবেকবান নৈতিক মানুষকে কি এসব গ্রহণ করতেই হবে। আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, মজুররা কোন দুর্নীতি করে না, হয়তো তাদের সুযোগও নেই। কিন্তু যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজের কর্ণধার সর্বজন শ্রদ্ধেয় তারা যখন অনৈতিকতার আশ্রয় নেয় তখন ভাবতে কষ্ট হয়।

লেখকঃ শ্রীকান্ত পাল,সাধারন সম্পাদক, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 294
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য