হযরত আল্লামা মোঃ আছদ্দর আলী ছাহেব (চানপুরী হুজুর) (রাহঃ) এর সাথে শেষ দেখা ৷

হযরত আল্লামা মোঃ আছদ্দর আলী ছাহেব (চানপুরী হুজুর) (রাহঃ) এর সাথে শেষ দেখা ৷

 

মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ

জকিগঞ্জ টাইমস : হযরত আল্লামা মোঃ আছদ্দর আলী ছাহেব (চাঁনপুরী হুজুর) (রাহঃ) দীর্ঘ দিন বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার মানিক পুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় প্রধান মুফতি হিসাবে শিক্ষকতা করেন ৷ তিনি অবসর গ্রহন করার পর ও মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইন্তেকাল পর্যন্ত মাদ্রায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন ৷ তাঁর সম্পর্কে লিখতে বা বলতে গেলে শেষ হবে না ৷ আমি শুধু হুজুরের সাথে আমার শেষ দেখার বিষয় সংক্ষেপে লিখার চেষ্টা করব ৷ আমি যখন দেশে যাই প্রত্যেকবার যে প্রতিষ্ঠানে আমি লেখা পড়া করেছি সেই প্রতিষ্ঠান ইছামতি কামিল মাদ্রায় যাই, সবার সাথে দেখা করি ৷ বর্তমানে শিক্ষক হিসাবে যাঁরা আছেন আমার উস্তাদ কয়েক জন ছাড়া অনেক আমার সহ পাঠি, কিছু সিনিয়র ও কিছু জুনিয়র ৷ সবার সাথে দেখা করি আলাপ আলোচনা করে অনেক সময় তাঁদের সাথে কাঠাই ৷ গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে আমি দেশে গিয়ে মার্চ মাসের ১৯ তারিখ মঙ্গলবার আমি ইছামতি কামিল মাদ্রাসায় যাই ৷ গিয়ে অধ্যক্ষ সাহেবের সাথে দেখা করে উনার কক্ষে বসে আলাপ আলোচনা করি ও সবাই এক সাথে বসে আলোচনা করা ও নাস্তার কথা বলি ৷ এই সময় আমার শ্রদ্বেয় উস্তাদ হযরত আল্লামা মোঃ আছদ্দর আলী ছাহেব (চানপুরী হুজুর) (রাহঃ) অধ্যক্ষের কক্ষে আসেন তখন আমি উঠে সাথে সাথে ছালাম ও কদম বুছি করে হুজুরের কুশলাদি জানলাম হুজুর ও আমার খোজ খবর জেনে বসার জন্য বললেন, আমি হুজুরের আদেশ মানতে গিয়ে বসলাম ৷ ভার প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ শিহাবুর রহমান চৌধুরী সাহেব, হুজুর ও আমি অনেক ব্যাপারে আলাপ আলোচনা হল ৷ এক পর্যায় হুজুর বললেন তিনি চলে যেতে হবে অন্য কাজের জন্য তাই বিদায় নিতে চাইলেন, তখন অধ্যক্ষ সাহেব বললেন হুজুর আজকে জোহরের নামায পরে গেলে হবে কি ? হুজুর বললেন কেন ? অধ্যক্ষ সাহেব বললেন মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করছেন, হুজুর থাকলে আমরা এক সাথে খাব ও হুজুর একটি দোয়া করবেন ৷ তখন হুজুর বললেন আমার এই লন্ডনী মাওলানা মোঃ আব্দুল কূদ্দুছ প্রত্যেক বার এসে আমাদের সবাইকে খাবান, এই বার আপনারা খান আমি যেতেই হবে আর আমি দোয়া করব ৷ তখন আমি ও অধ্যক্ষ সাহেব পরামর্শ করে মাদ্রাসার কর্মচারী আব্দুল মুকিতের মাধ্যমে শুধু হুজুরের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করলাম আর হুজুরকে বললাম হুজুর সামান্য সময় পরে যাবেন, হুজুর আমাদেরকে সম্মতি দিয়ে আমাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন ৷ এর মধ্যে নাস্তা এসে গেল হুজুর নাস্তা খেয়ে খেয়ে আর ও আমাদের সাথে বিশেষ করে মাদ্রাসার উন্নতির কথা আলোচনা করলেন ৷ তার পর হুজুর উঠে বললেন আমি চলে যাব, তখন হুজুরের সাথে সাথে কিছু জায়গা গিয়ে বললান হুজুর আর হয়তো দেখা হবেনা আমি আগামী সপ্তাহে লন্ডন চলে যাব তার পর কদম বুছী ও ছালাম করে দোয়া করার জন্য বললাম তখন হুজুর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন আমি দোয়া করব তুমি ও দোয়া করিও ৷ সর্ব শেষ হুজুর বললেন আবার দেশে এসে হয়তো আমাকে আর পাবেনা, তাই মওতের খবর শুনলে দোয়া করিও, যাও আল্লাহর হাওলা ৷
হুজুরকে বিদায় দিয়ে আমি আবার অধ্যক্ষ সাহেবের কক্ষে এসে সবাই এক সাথে নামায পড়ে সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে নাস্তা খেয়ে বিদায় নিয়ে চলে আসি ৷
হুজুরের সাথে এই আমার শেষ কথা ও শেষ দেখা ৷ হুজুরের কথা মত আর দেশে গিয়ে দেখা হবেনা ৷ গত ১২ মে ২০২০ ইং, ১৯ রামাদ্বান ১৪৪১ হিঃ (বাংলাদেশ ১৮ রামাদ্বান) মঙ্গলবার রাত অনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকার সময় নিজ বাড়িতে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রাহঃ) এর স্নেহ ভাজন এবং হযরত আল্লামা মোঃ হবিবুর রহমান ছাহেবের ছাত্র ও স্নেহ ভাজন, হাজার হাজার উলামা গণের উস্তাদ, আমার শ্রদ্বেয় উস্তাদ হযরত আল্লামা মোঃ আছদ্দর আলী চানপুরী হুজুর মহান আল্লাহ পাকের ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে রেখে চলে গেছেন না ফেরার জগতে ৷ ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ৷ আল্লাহ তায়ালা আমার শ্রদ্বেয় উস্তাদ ও হাজার হাজার উলামাগণের উস্তাদ চানপুরী হুজুরকে জান্নাতের উচু মাকাম যেন দান করেন এবং আমাদের অন্যান্য উস্তাদ গন ও বাবা মা যাঁরা ইন্তেকাল করেছেন তাঁদেরকে ও জান্নাতু ফেরদাউস নসিব করুন আর যাঁরা জীবিত আছেন তাঁদেরকে দীর্ঘ হায়াত দান করুন ৷ আমিন ৷
লেখক : মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ
সহ সভাপতি
জকিগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে,
প্রতিষ্ঠাতা ট্রাষ্টি
মোহাম্মদ মনোহর আলী ট্রাষ্ট,
ভাইস প্রেসিডেন্ট
আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে- গ্রেটার লন্ডন ডিভিশন,
উপস্থাপক
রেডিও ও টেলিভিশন-লন্ডন,
সাবেক ছাত্র
ইছামতি কামিল মাদ্রাসা
এবং বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ৷

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য