প্রবাসে ফটোসাংবাদিক হয়ে উঠার গল্প-২

 

মিহির মোহন দাস : ২০১৩ সাল। শাহবাগের গণজাগরণের বাতাস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগরিত বার্মিংহাম শহরে দোল খায়। সেখানে বাংগালী কমিউনিটির প্রগতিশীল সংগঠনগুলো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। দি সার্পোট বংলাদেশ, দি স্পিরিট অব ৭১, গণজাগরণ মঞ্চ বার্মিংহাম নামক নতুন সংগঠনের সৃষ্টি হয়। দি স্পিরিট অব ৭১ , বার্মিংহাম একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আস্টনস্থ বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জাতিবিদ্যাবিদ ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” এর রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। শরীর অসুস্থ থাকার পরও কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু এর আহবানে না বলতে পারেননি।তিনি উপস্থিত হয়ে আমাদের ধন্য করেন।সে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।

একাত্তরের হাতিয়ার/গর্জে উঠুক আরেকবার, তোমার আমার ঠিকানা / পদ্মা মেঘনা যমুনা এসব স্লোগানে মুখরিত হয় প্রাঙ্গণ। বার্মিংহাম ও কভেন্টি শহরের অনেক প্রগতিশীল যোদ্ধা এ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই প্রধান অতিথির সাথে নিজেদের মত করে ছবি উঠেন। সেদিন অনেক ছবি তুলি। তাদের মধ্যে একটি ছবি কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু আর জাতিবিদ্যাবিদ আবদুল গাফফার চৌধুরী এর এক কথোপকথনের । খুব হাস্য উজ্জ্বল দুজন।

অকালে চলে গেলেন সুকান্ত কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্মলহীথ পার্কের বিপরীতে ছিলো ইলেকট্টো কটেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান মঞ্জু ভাইয়ের। এখানে বার্মিংহাম বাংগালী কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা আসতেন। কবির সংস্পর্শে থাকায় অনেকের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল।আমি আজো নিজেকে ধন্য মনে করি। কবি মঞ্জুর দীর্ঘ একটি সাক্ষাতকার ছাপা হয় আমার সম্পাদিত শিখা ম্যাগাজিনে। সাক্ষাতকারের শেষ কথা ছিলো- `আমি অমানবিক হতে চাইনা মিহির; আমি কবিও হতে চাই না। সারা জন্মে যা হতে চেয়েছি তা হলো-মানুষ’

বিঃদ্রঃ দি স্পিরিট অব ৭১ গঠনে যাদের ভূমিকা ছিলো তা নিয়ে লিখবো অন্য লেখায়।আমি ছিলাম স্পিরিট অব ৭১ এর একজন সদস্য। তাই পোষ্ট পড়ে আমার অনেক সহযোদ্ধা যেন ভুল না বুঝেন।

লেখক : মিহির মোহন দাস

প্রভাষক, মদন মোহন কলেজ, সিলেট

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য