চিকিৎসা দিলোনা সিলেটের হাসপাতাল : সন্তানের কোলেই বাবার মৃত্যু

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘বাচাঁতে পারলামনা বাবাকে’-এই আর্তি এক সন্তানের। বাবাকে বাচাঁতে সন্তানের এই করুণ আর্তি আকাশে-বাতাসে ধ্বণিত হলেও নাড়া দেয়নি কোনো চিকিৎসকের মন। চিকিৎসার জন্য জীবন প্রদীপ নিভু নিভু পিতাকে সাথে নিয়েই দ্বারে দ্বারে ঘুরলেন সিলেটের হাসপাতালে। না, একটি হাসপাতাল হলে কথা ছিলো ! এক এক করে চার-চারটি হাসপাতাল ঘুরেও কোনো হাসপাতালেই ঠাঁই হলোনা পিতার। অগত্যা পুত্রের সামনেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পিতা !

খবরটি কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয়, সভ্য সমাজের অংশ তো নয়ই। তবুও বাস্তবতা বারবার জানান দেয়-সবকিছুই আজ নষ্টদের দখলে। আর এমন ঘটনাই ঘটলো সিলেটে। এক এক করে অসুস্থ্য পিতাকে নিয়ে যখন ভোরবেলা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের সদর দরোজায়, তখনই নিরাশার বাণী আসতে থাকলো। সন্তানের দু’চোখের সামনে তখন কেবলই ভেসে উঠছে অন্ধকার। পিতা হারানোর ভয়ে শিহরিত হচ্ছে শরীর। ঠা-া হয়ে যাচ্ছে হাত-পা।এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতাল বাবাকে বাচানো প্রানপন চেষ্টা।শেষমেশ বিনা চিকিৎসায় সন্তানের সামনেই বাবার মৃত্যু।বাবার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন সিলেটের বন্দরবাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আর এল ইলেকট্রনিক্সের মালিক হাজি ইকবাল হোসেন খোকার ছেলে তিহাম।

তিহাম জানান,শুক্রবার ভোররাতে তার বাবার হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করেন।তারা জরুরী ভিত্তিতে একটি এম্বুলেন্স কল করে এনে প্রথমে নগরীর সুবহানীঘাটে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যান সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং অন্য একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাবার কথা বলেন।ডাক্তারের কথামত ওই ক্লিনিকেও নিয়ে যান সেখানে নেয়ার পর ডিউটিতে থাকা নার্স বলেন এখানে সিট নেই আপনার সামসুদ্দিনে যান।

সেখান থেকে শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে দরজায় প্রায় ১০ মিনিট দাড়িয়ে থাকার পর ভেতর থেকে একজন এসে বলে সবাইঘুমে আপনারা ওসমানী হাসপাতালে যান।সেখান থেকে ওসামনী হাসপাতালে গেলাম সেখানে গিয়েও একই অবস্থা। জরুরী বিভাগ গেলাম সেখানের ডাক্তার বলেন দুতলায় সিসিউতে যান, সিসিউতে যাওয়ার পর উনারা বারান্দায় শুয়ে রেখে বলে এস্করে করে নিয়ে আসেন । এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বলেন আমার বাবা নেই।

এভাবেই চারটি হাসপাতাল ঘুরার বর্ননা করে কান্নাজড়িত কন্ঠে তিহাম বলেন, আমার বাবাকে বাচাঁতে পারলামনা।একজন চিকিৎসক যদি কোনধরনের চেষ্টা করতেন মনকে শান্তনা দিতে পারতাম।বিনা চিকিৎসায় আমার বাবা মারা গেলেন। আর কারো বাবা যেন এভাবে বিনা চিকিৎসায় রাস্তা রাস্তায় ঘুরে মৃত্যু না ঘটে।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য