জীবন মানে সাপলুডু খেলা

 

সৈয়দ আছলাম হোসেন : ক্ষনস্থায়ী মানব জীবনে প্রতিটি মানুষের আলাদা রকম জীবন ব্যবস্থা সৃষ্টিকর্তা করে রেখেছেন। কারো দু:খের কারো সুখের কারো অভাবের কাবো শান্তির কারো অশান্তির জীবন। কেহ গরিবের ঘরে জন্ম নিয়ে সারা জীবন অভাবে কাটাতে হয়, কেহ বড় লোকের ঘরে জন্ম নিয়ে সোনার চামচে পানি পান করেন। কেহ সারা জীবন পরিশ্রম করে কাটাতে হয় কেহ আরাম আয়েশ করে জীবন কাটাতে হয়। সত্য কথা হচ্ছে গরিবের ঘরে জন্ম নিয়ে বৈধ ভাবে যতই পরিশ্রম করুক না কেন সারা জীবনে ও কোটিপতি হতে পারবেনা। এই কথাটি যখন মিথ্যা প্রমানিত হয় তখন মনে হয় জীবন মানে সাপলুডু খেলা।

জীবন মানে সাপলুডু খেলা এর দুটি উদাহরন দেয়া হল। একজন গরিবের মেয়ে আমরেলা বেগম কলেজে যাওয়ার জন্য রাস্থার পাশে যাত্রি ছাউনিতে বসে গাড়ির অপেক্ষা করতেছে। ঘরে ভাল খাবার না থাকায় সকালে সামান্য খাবার খেয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। একটু পরে দেখা যায় রাস্থা দিয়ে চলে যাওয়া একটি কার ফিরে এসে আমপান নামের সুন্দর একটি ছেলে আমরেলার সাথে কথা বলে তার পরিচয় নিয়ে বিয়ের প্রস্থাব দিয়ে বাড়িতে লোক পাঠায়। আমপান লন্ডনে থাকে, তার কাছে প্রচুর টাকা আছে, সে একজন সুন্দরী মেয়ে খুজতেছে । আমরেলা বেগম কে দেখে তার খুবই ভাল লাগলো তাই পারিবারিক ভাবে বিয়ে হলো, কিছু দিনের মধ্যে আমপান মিয়া আমরেলা বেগমকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান। সেখানে গিয়ে আমরেলার বাড়িতে অনেক টাকা পাঠালেন দুই তলা বিল্ডি; নির্মানের জন্য। গরিবের সুন্দরী মেয়ে আমরেলা বেগমের উছিলায় পুরো পরিবার এক বছরের মধ্যে বড়লোক হয়ে গেলেন।

আমপান এর ছোটো ভাই ফনি মিয়া উচ্ছশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরেছেন। মা বাবা আশা করে ছেলের সুন্দর জীবন সাজানোর জন্য পাত্রি দেখা নিয়ে ব্যস্থ। ছেলেটি দেশে এসে পরের দিন আপনজনদের উপহার দেয়ার জন্য কেনাকাটা করতে শহরে যান। শহরে গিয়ে কেটাকাটা করার পর ফিরে আসার সময় ছিন্তাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিন্তাইকারী ফনি মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে তার কাছ থেকে টাকা পয়সা, মোবাইল সহ সবকিছু নিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ফনি মিয়া মারা যায়।

এখানে দুই ভাইয়ের সাপলুডু খেলায় আমরা দেখতে পাই যে আমরেলা বেগম মই এর নিচে পা রেখে অনেক উপরে চল গেল আর ফনি মিয়া সাপের মাথায় পা দিয়ে অকালে ঝরে গেল। তাই আমি মনে করি জীবন মানে সাপলুডু খেলা।

লেখক :প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি – সুবাস ( এন জি ও) সিলেট,

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য