★ এক নজরে হযরত মাওঃ মোঃ ফজলুর রহমান চৌধুরী’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

জকিগঞ্জ টাইমস :

★ জন্ম ও বংশ★
মাওলানা মোঃ ফজলুর রহমান চৌধুরী ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে সিলেট জেলার জকিগনজ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের শিঙ্গাইরকুড়ি (লিয়াকতপুর) গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার উজ্জল নক্ষএ সুলতানুল আরেফিন,কুতবুল আউলিয়া, ওলীয়ে কামিল, শাহ সূফী আল্লামা আব্দুল মান্নান চৌধুরী শিঙ্গাইরকুড়ি ছাহেব (রহঃ) ও মাতা আশফাকুন নেছা তাপাদার। তাঁর দাদা উসমান আলী চৌধুরী এলাকার নেতৃস্থানীয়,সৎ ও ন্যায়পরায়ণ লোক ছিলেন। বাবা শিঙ্গাইরকুড়ি ছাহেব (রহঃ) আলাদা পরিচয় অনাবশ্যক, যিনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ট ওলীয়ে মহান।
তাঁর নানা বারহাল ইউনিয়নের কেশরপুর গ্রামের মৌলভী ইছহাক আলী তাপাদার। তিনিও একজন আলেম ও সম্ভ্রান্ত লোক ছিলেন।

★ শিক্ষাজীবন★

বুযুর্গ পিতার স্নেহশক্তি সন্তান এই আলেমে দ্বীনের শিক্ষার হাতে খড়ি হয় পারিবারিকভাবে পিতা-মাতার কাছে। বিয়ানীবাজার মাথিউরা সিনিয়র মাদরাসায় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহন করেন।
কিছুদিন থানাবাজার লতিফিয়া ফুরকানিয়া দাখিল মাদরাসায় পড়াশুনা করার পর কানাইঘাটের তৎকালীন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ঝিঙ্গাবাড়ি সিনিয়র মাদরাসা থেকে ১৯৭২ সালে দাখিল,১৯৭৪ সালে আলিম,১৯৭৬ সালে ফাযিল পরীক্ষা দিয়ে সুনামের সাথে উওীর্ণ হোন।
১৯৭৮ সালে সিলেট সরকারী আলীয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন। তিনি মদন মোহন কলেজেও কিছুদিন পড়াশুনা করেন।

★ইলমে হাদীসের সনদ লাভ★

উপমহাদেশের বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান (সাবেক অধ্যক্ষ,ইছামতি কামিল মাদরাসা) ছাহেবের কাছ থেকে তিনি ইলমে হাদীসের বিশেষ সনদ লাভ করেন।

★ ইলমে তাসাউফ★

কুতবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা আব্দুন নুর গড়কাপনী (রহঃ) এর খলিফা এবং নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদীয়া তরিকার মহান মুর্শিদ,তদীয় পিতা শিঙ্গাইরকুড়ি ছাহেব (রহঃ) এর কাছ থেকে তাসাউফের শিক্ষা ও খেলাফতি লাভ করেন।
বর্তমানে তিনি পিতার গদ্দিনশীন হিসেবে তরিকতের দায়িত্ব আন্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ও অসংখ্য মুরীদিন,মুহীববীন ও ভক্ত অনুরাগী রয়েছেন। বিভিন্ন মসজিদ- খানকা মাহফিলে তা’লীম তরবিয়ত প্রদান করে থাকেন।

★ শিক্ষকতা জীবন★

পিতার প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা শিঙ্গাইরকুড়ি ছাহেব (রহঃ) এর নির্দেশে তিনি ১৯৭৮ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে সোনাপুর মাজহারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় সুপার এর দায়িত্বে আন্জাম দেন।
১৯৭৮ সালের ২৯ মে থেকে ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪২ বছরের ও অধিক সময় তিনি উক্ত মাদরাসায় সুপারিন্টেনডেন্ট এর দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সহিত পালন করেন।
এই মহান পেশা ছিল তাঁর জীবনের ধ্যান,জ্ঞান-ব্রত। ইলমে দ্বীনের খেদমতে নিজের জীবন যৌবন তিনি উৎসর্গ করেছেন।

★ প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা★

মানুষ গড়ার এই মহান ব্যক্তি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত। আজও এসব প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন।
* তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ
১. বরকতপুর মান্নানীয়া দাখিল মাদরাসা, যাহা (নিজ বাড়ি সংলগ্ন অবস্থিত)
২. বেউর বালিকা দাখিল মাদরাসা।
৩. পীরনগর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা।
৪. বীরশ্রী রহমানীয়া ইবতেদায়ী মাদরাসা।
৫. বীরশ্রী কুতুবিয়া হাফিজিয়া মাদরসা সহ আরো অনেক,,,,
এছাড়া অনেক মসজিদ, ঈদগাহ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য।

★পারিবারিক জীবন★

তিনি ১৯৮৫ সালে জকিগনজের মনসুরপুর (ফুলতলী) গ্রামের সম্ভ্রান্ত ফ্যামেলীতে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহঃ) এর ইশারায় মাস্টার জনাব আলী আহমদ চৌধুরীর তৃতীয় কন্যার সাথে বিবাহ বন্দ্বনে আবদ্ব হোন।
তাঁদের কোলজুড়ে তিন পুএ ও চার কন্যার জন্ম হয়। ছেলেদের মধ্যে মাওলানা মোঃ শাহিদুর রহমান চৌধুরী (এহতেশাম) সবার বড়। তিনি ইছামতি কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন। মাওঃ শাহিদুর রহমান চৌধুরী সারাদেশে ইসলামিক বক্তা হিসেবে পরিচিত।
দ্বিতীয় ছেলে আব্দুর রহমান চৌধুরী (তামিম) তদীয় চাচা মাওলানা লুৎফুর রহমান চৌধুরী পীর ছাহেবের প্রভাবে প্রভাবিত বলে কথিত রয়েছে।
ছোট ছেলে মোঃ আরিফুর রহমান চৌধুরী (তানজিম) ফেন্চুগনজ মোহাম্মদীয়া কামিল মাদরাসায় অধ্যয়নরত।
* বড় কন্যা ফেন্চুগনজ মোহাম্মদীয়া কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক, মাওলানা আবু বকর মোঃ নুরীর সাথে বিবাহ বন্দ্বনে আবদ্ব্।
* দ্বিতীয় কন্যা বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার আরবী প্রভাষক,বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক মাওলানা মোঃ নজমুল হুদা খান’র সাথে বিবাহ বন্দ্বনে আবদ্ব।
* তৃতীয় কন্যা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা মোঃ আব্দুল লতিফ খালেদ’র সাথে বিবাহ বন্দ্বনে আবদ্ব।
* চতুর্থ কন্যা জকিগনজ ফাজিল সিনিয়র মাদরাসা থেকে ফাজিল পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। সন্তানদের মধ্যে সবাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।

★ সাংগঠনিকতা★
শিঙ্গাইরকুড়ি ছাহেব বাড়িতে অবস্থিত শাহ শিঙ্গাইরকুড়ি (রহঃ) মান্নানীয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি তিনি। বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র জকিগনজ উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত দীর্ঘ দিন থেকে দায়িত্বরত আছেন। তিনি জকিগনজ উপজেলার দাখিল মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী উন্নয়ন সমিতির আজীবন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত আছেন। মাওঃ ফখরুল ইসলাম বৃওি ট্রাস্ট এর ও সভাপতি ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

★ হজ্জ পালন★

তিনি ১৯৮৭ সালে সর্বপ্রথম হজ্জ পালন করেন। পবিএ বাইতুল্লাহ’র তাওয়াফ ও মদিনা মুনাওয়ারার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে তিনি বহুবার পবিএ হজ্জ ও ওমরার সফর করেন।

★ ইলমে দ্বীনের প্রসারতা★

তিনি একজন প্রখর মেধার অধিকারী। এ মহান আলেম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদান ছাড়াও সমাজ সংস্কারের কাজে সাধারণ মানুষদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা দান করে থাকেন। ইলমের প্রসারতা এমন এতদ অন্চল ছাড়াও বহু দূর দুরান্ত থেকে লোকজন তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন জঠিল শরয়ী মাসআলার সমাধান নিয়ে থাকেন।

★ ন্যায়পরায়নতা★

সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় সৎ ও নিষ্ঠার সাথে বিচারকার্য সম্পাদন করে থাকেন। আমানতদারিতায় তাঁর উপমা নেই।

★ ব্যক্তিগত স্বভাব★

অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও আপাদমস্তক ভদ্র স্বভাবের অধিকারী তিনি।
তাঁর চমৎকার ব্যবহার যে কাউকে মুগ্দ করার মতো। তাকওয়া পরহেযগারী,আমল-আখলাক ও আথিতেয়তার বহুবিদ গুণে গুণান্বিত তিনি। আল্লাহ যেনো উনার সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।

এ মহান আলেমে দ্বীনের বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রকাশিত সোনাপুর ম,উ দাখিল মাদরাসা’র বর্তমান সুপার মাওলানা মোঃ কুতবুল আলম রচিত স্মারক লিপি থেকে সংগৃহীত ও সংযোযিত।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 546
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য