আবারও ময়মনসিংহ থেকে ঢাকামুখী গার্মেন্টস কর্মীদের স্রোত

 ময়মনসিংহ থেকে দলে দলে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। তবে ময়মনসিংহের শম্ভগঞ্জ, পাটগুদাম ব্রীজ ও দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় পুলিশ তাদের বাঁধা দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তারপরও অনেকে নানা কৌশলে কর্মস্থলে যাওয়া চেষ্টা করছেন।

রোববার ভোর থেকেই হাজারো শিশু-কিশোরসহ নারী-পুরুষ যে যেভাবে পারছেন, ঢাকায় যাবার জন্য ময়মনসিংহ আসছেন। ফলে পাটগুদাম ব্রীজ থেকে দেখা গেছে ঢাকামুখী গার্মেন্টস কর্মীদের স্রোত। এ যেন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

শ্রমিকরা জানায়, আজকের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে তাদের চাকরি চলে যাবে। এদিকে নির্দেশনা না থাকায় তাদের ঢাকা যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। করোনার কারণে গণপরিবহনসহ ব্যাটারি বা ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকায় নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ও উপজেলা থেকে আসা গার্মেন্টসকর্মীরা ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত পেীঁছে ঢাকামুখী যানবাহনের আশায় পায়ে হেঁটেই পাড়ি দেন শম্ভুগঞ্জ থেকে ঢাকা বাইপাস মোড় পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ।

ভোগান্তি আর হয়রানিই যেন পোশাক শ্রমিকদের নিয়তি। দেশে গণপরিরহন বন্ধ এবং করোনা প্রতিরোধে জেলায় জেলায় লকডাউন চললেও তাদের কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন গার্মেন্টস মালিকরা। মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের বাঁধায় যেতে পারছেন না তারা।

শ্রমিকরা জানান, আজকের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে চাকরি চলে যাবে তাদের। বেতন-বোনাস থেকে বঞ্চিত হবেন তারা। সারাদেশে সব অফিস বন্ধ। কিন্তু গার্মেন্টস খোলা কেন। আমরা কি মানুষ না। করোনার ভয় আমাদেরও আছে। পেটের তাগিদে হেঁটে হেঁটে কষ্ট করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

পুলিশ বাধা দিচ্ছে। তাহলে মালিকরা কেন কারখানা খুলে আমাদের যেতে বললো। আমাদের দেখার কেউ নেই। আগেও একবার আমরা কষ্ট করে গিয়ে শুনলাম বন্ধের ঘোষণা। কেন আমাদের বারবার এমন অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুৃল ইসলাম জানান, গার্মেন্টস খুললেও কাজ করবে স্থানীয় শ্রমিকরা। যারা গ্রামে চলে এসেছিলেন তাদের ঢাকামুখী যাওয়ার নির্দেশনা নেই। তাই তাদের বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যখন নির্দেশনা আসবে, যানবাহন চলাচল শুরু হবে তখন তাদের যেতে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য