করোনাকালে নিরাপদে রোজা রাখবেন যেভাবে

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশে^র বিভিন্ন দেশে ‘লকডাউন’ চলার মধ্যেই মুসলমানদের জন্য ‘পবিত্র রমজান মাস’ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর বিশ^জুড়ে কোটি কোটি মুসলিম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে রোজা পালন করেন। কিন্তু যখন কোনো মহামারী চলে তখন রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের রোগপ্রতিরোধ বিষয়ক এক গবেষক বলেন, সংক্রমণের বিরুদ্ধ লড়াই করার জন্য শরীরে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে খাবার এবং পানি পান না করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সুতরাং ইফতারের পর আপনি যেসব খাবার খাবেন সেখানে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি থাকে সেটা নিশ্চিত করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। বিশেষ করে নানা রঙের সবজি, ফল, ডাল ও বাদাম। রোজার সময় শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরের ভেতরে শ^াস-প্রশ^াস নেওয়ার জায়গা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনি যদি পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকেন তা হলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, আপনি ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হাত ধোয়া এবং বাসায় অবস্থান করা।
যেসব মানুষের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ কিংবা অন্যান্য অসুস্থতা রয়েছে তাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা রয়েছে। ডায়াবেটিস ইউকে হেড অব কেয়ার ড্যানিয়েল হাওয়ার্থ বলেন, যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা রোজা রাখবেন কি না সেটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর। তবে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তারা কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। যেমনÑ যেসব কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার শরীরে ধীরে ধীরে ছড়ায় সেগুলো খেতে পারেন। যেমন লাল রুটি, ভাত। এ ছাড়া দিনে বেশ কয়েকবার ডায়াবেটিস পরিমাপ করে দেখতে হবে।

ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিল স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য একটি পরামর্শ দিচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা যেহেতু কোভিড-১৯ রোগীদের সেবা দিচ্ছেন সেজন্য তাদের দীর্ঘ সময় ধরে পিপিই পরিধান করতে হয়। সেজন্য তাদের শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে এবং চিকিৎসায় ভুল হতে পারে। সেজন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোজা না রাখলেও চলবে। যদিও প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি না খাওয়ায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, কিন্তু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর রোজার প্রভাব এতটা সরাসরি নয়। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কোনো একটি ইলেকট্রিক সুইচের মতো নয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হচ্ছে শরীরে ভেতরে জটিল এক প্রক্রিয়া, যেখানে অনেক কিছুর ভারসাম্য রাখতে হয়। রোজা রাখলে শরীরের ভেতরে একধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যেটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমিয়ে রাখে। এজন্য আপনাকে কতক্ষণ না খেয়ে থাকতে হবে সেটিও পরিষ্কার নয়।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য