কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রভাব : সিলেটে করেনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমাগত

নিজস্ব প্রতিবেদক : কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কারণে সিলেটে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। ৫ এপ্রিল সিলেটে প্রথম করোনা আক্রান্তের পর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে (২৪ এপ্রিল) বর্তমানে ৫৪ জনে। ২৪ এপ্রিল নতুন আক্রান্ত হওয়া ৮ জন কোন জেলার-বিষয়টি এখনো জানা যায়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবে, বৃহত্তর সিলেটের চার জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে-এমন রোগীদের বেশির ভাগের অবস্থান হবিগঞ্জ জেলায়। এরপরই রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ জন। এ তালিকায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুজন। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলার বিষয়টি আশঙ্কাজনক বলে সাধারণ মানুষজন মনে করছেন। একই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ায় মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সও রয়েছেন। যে দুজন করোনা-আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, এঁদের একজন আবার চিকিৎসক। সবকিছু মিলিয়ে সিলেটের অনেক বাসিন্দা ভয় আর আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলাকে ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে এবং হবিগঞ্জ জেলাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে ছুটি পেয়ে ঢাকা (আংশিক), নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে প্রচুর সংখ্যক গার্মেন্টস কর্মী বৃহত্তর সিলেটের চার জেলায় নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। আক্রান্ত রোগীদের অনেকেই নারায়ণগঞ্জ-ফেরত। আর নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা যাঁরা শনাক্ত হননি, এঁরা করোনাভাইরাস বহন করছেন বলে অনেকের ধারণা। অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলটি প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায়, বিষয়টি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের চার জেলায় করোনা রোগীর মধ্যে ২১ জনই হবিগঞ্জ জেলায়। হবিগঞ্জ ছাড়া বিভাগের অপর তিন জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জে ১৪ জন, সিলেটে ১১ জন এবং মৌলভীবাজারে ৩জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া রোগীদেরমধ্যে সিলেট ও মৌলভীবাজারে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে মারা যাওয়া ব্যক্তি মঈনউদ্দিন (৪৭) সিলেট এম এ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা-আক্রান্ত হয়ে তিনিই প্রথম মারা গেলেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য স্থাপিত ল্যাবের সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ৭ এপ্রিল থেকে সিলেটে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। সিলেটের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নমুনা পরীক্ষার হার একেবারেই কম।আরও প্রচুর নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন এবং পরীক্ষার পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ, সাধারণ মানুষ ‘লকডাউন’ অমান্য করে এখনও হাটবাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখন কে যে আক্রান্ত আর কে যে আক্রান্ত নন, এ নিয়ে কারও সুস্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। করোনাভাইরাস শনাক্তে যত বেশি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে, তত বেশি আশঙ্কামুক্ত হওয়া যাবে।

সিলেট নগরের দুজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষজনদের ঘরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। অনেকেই ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়াও বেরোচ্ছেন। তবে শনাক্তকরণের পরীক্ষা আরও বাড়াতে পারলে মানুষজন বেশি আশ্বস্ত হতেন। এ ছাড়া সিলেট জেলা ছাড়া অপর তিন জেলায় করোনা রোগীদের জন্য কোনো আইসিইউ নেই, এ তথ্যও উদ্বেগজনক।

সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। আতঙ্কের কিছু নেই। কেবল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সবাইকে নিজেদের ঘরে থাকা উচিত এবং বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া দরকার।

আপনার মতামত প্রদান করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের অন্যান্য